খাতুনগঞ্জে এবার ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে বাড়ছে চিনির দাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই নৌ রুটে প্রধানত জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশে আমদানি চিনির সম্পর্ক না থাকলেও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে চিনির দাম বৃদ্ধি করছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি মণে (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। কেজি হিসেবে প্রায় ৩ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চিনির সরবরাহ সংকট রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ভোক্তারা বলছেন, আওয়ামী সরকারের আমলে গুটিকয়েক চিনির মিল মালিকের হাতে জিম্মি ছিল বাজার। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনির বাজারে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার পরে উর্ধ্বমুখী চিনির দাম এক পর্যায়ে একশত টাকার নিচে নেমে আসে। সে সময় অনেক ছোট আমদানিকারকরাও চিনি আমদানি করে। সে সময় এক পর্যায়ে দেশি চিনির মিল মালিকরা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করেন। লোকসান দিয়ে তারা চিনির বাজারে টিকতে না পেরে তারা আমদানি বন্ধ করে দেয়। এরপর পুনরায় আবার সক্রিয় হয়ে উঠে চিনির মিল মালিক সিন্ডিকেট। সেই ধারবাহিকতায় এখন তারা আগের মতো ইচ্ছেমতো চিনির দাম উঠানামা করাচ্ছে।
গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে মণপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪৪০ টাকায়। বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫৪০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজারে আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, চিনির বাজারে আসলে সিন্ডিকেট বলে তেমন কিছু নাই। খাতুনগঞ্জে যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সিন্ডিকেট কারসাজির অভিযোগ উঠে। আসলে শুধু চিনি নয়, ভোগ্যপণ্যের দাম উঠানামা করে চাহিদা ও যোগানের ওপর।














