কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে মন

কানিজ ফাতেমা লিমা | বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

সালেহ আহমেদ স্যার। জন্ম ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭। ২০১০ সালে ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল তদন্ত হিসাবে এসেছিলেন চট্টগ্রাম জিপিওএর সঞ্চয় শাখায়। তখন আমার চাকরির বয়স মাত্র ৬ বছর। সঞ্চয় শাখাতে তদন্তের স্বার্থে যা যা সঠিক তা’ই দিলাম স্যারকে। তিনি এখন সাবেক কর্মকর্তা। অবসরে গেলেন গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি আগারগাঁও অফিস থেকে। স্যারের অবসরের আগের কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে হলো।

২০২৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি আমি কারাগারে গেলাম। ওখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করেছিলাম। এরপর ১৬ই মার্চ জামিন হয়ে বাসায় আসার পরে আবারো অসুস্থ হয়ে গেলাম। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিলাম না। হাঁটতে গেলে কারো হেল্প লাগে। আমার হাঁটার সুবিধার্থে চট্টগ্রাম একাডেমির অন্যতম পরিচালক অনুবাদক ফারজানা রহমান শিমু আপার দ্বারস্থ হতাম। তিনি অনেক সাহায্য করে থাকেন। তাঁর সাহায্য নিয়ে আমি গেলাম স্যারের সাথে দেখা করতে। একজন পোস্ট মাস্টার জেনারেলের সাথে এপয়েন্টমেন্টের সিরিয়াল থাকে। কিন্তু স্যারের অনেক কাজ থাকা সত্ত্বেও স্যার নামাজ শেষ করে লাঞ্চ করেই আমাদের কথা শোনার জন্য এলেন। তারপর তাঁর প্রশাসনিক অফিসারকে বলে দিলেন আমি একটু জরুরি বিষয়ে কথা বলছি, আপাতত কেউ যেন স্যারের কাছে ফাইল না আনেন। আসলেই তিনি মেয়ের মত স্নেহ করে গুরুত্ব দিতেন আমাকে। স্যারকে বললাম, চিকিৎসার জন্য টাকা লাগবে। আমার তুলতুলের জন্য টাকা তোলার কারণে আমার আবার টাকা তোলার বিষয়ে স্যারকে অবহিত করলাম। জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা লাগবে, বললাম স্যারকে। স্যার বাজেট সেকশনকে কল দিয়ে জানলেন যদি লোন নিতে হয় আগের লোন অফ রেখে নতুন লোনের জন্য এপ্লাই করা লাগবে সরকারি রুল অনুসারে। ১ ঘন্টার মিটিংয়ে আমার জিপিএফ ফান্ড থেকে আড়াই লক্ষ টাকার আবেদন ঢাকা থেকে পাশ করিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনিক অফিসারসহ জানিয়ে দিলেন আমার প্রশাসনের ইন্সপেক্টর জিয়াউল হক জিয়া, পিএমজি অফিসের দুজন অফিসারকে দায়িত্ব দিলেন। আল্লাহর রহমতে আমি ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পেলাম বিনা হয়রানিতে। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই ইমাম ভাই, সুষম দাদাকে। পরে জনাতে পেরেছি পিএমজি স্যারের আন্তরিক অবদানের কারণেই ১৬দিনের ভেতরে টাকাটা পেলাম। টাকা পেয়ে স্কয়ার হাসপাতালে গেলাম আবার আমি। যেহেতু আড়াই লক্ষ টাকা চেয়েছি, সেহেতু এক্সট্রা ২০ হাজার টাকা ম্যানেজ করে দিলেন তিনি। বলে দিলেন আমি আমার সময় সুবিধা মত যেন ফেরত দেই। যেহেতু আমি GO (government order) নিয়ে ইন্ডিয়া যেতাম। এখন তো সাময়িক বরখাস্ত থাকার কারণে আমি যেতে পারবো না। স্কয়ারে চিকিৎসা যেন ভালোভাবে করাতে পারি, সেজন্য টাকাটা খুব সহজ শর্তে ম্যানেজ করে দিলেন। স্যারের উদারতার কথা যত বলি, শেষ হবে না। উল্লেখ্য, স্যারের তিন ছেলে। বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছে, মেজো ছেলে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে, ছোট ছেলে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভর্তির অপেক্ষায়। স্যার ১৫তম বিসিএস কর্মকর্তা। আমি স্যারের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যোগ্যতা-ই হোক একমাত্র মানদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে