দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কাঠামো নিয়ে আবারও একটি উদ্বেগজনক আলোচনা সামনে এসেছে, পরিচালনা কমিটির সভাপতির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা শিথিল বা বাতিলের চিন্তা। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিক্ষা একটি জাতির বিবেক গঠনের প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব যদি দুর্বল হয়, তবে পুরো ব্যবস্থাই একসময় ভেঙে পড়তে পারে। বাস্তবতা হলো, অতীতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়েছে, যার ফলে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার চিন্তা আমাদের আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেবল একটি সম্মানসূচক পদ নয়, এটি একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জায়গা। এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন শিক্ষাগত ভিত্তি, বিচক্ষণতা ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এখানে শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং নেতৃত্বের মানসিক প্রস্তুতি। যোগ্যতা উপেক্ষা করা মানে শুধু একজনকে সুযোগ দেওয়া নয়, বরং একটি প্রজন্মের শিক্ষার মানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। এর প্রভাব তাৎক্ষণিক না হলেও ভবিষ্যতে তা গভীরভাবে প্রতিফলিত হবে। তবে সভাপতি নির্বাচনে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যদি ন্যূনতম যোগ্যতাই নিশ্চিত না হয়, তবে তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। শিক্ষার মানোন্নয়ন যদি সত্যিই অগ্রাধিকার পায়, তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে কোনো আপস চলতে পারে না। বরং প্রয়োজন আরও সুসংহত নীতি, যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা সমানভাবে গুরুত্ব পাবে। সবশেষে, শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে ভুলের মূল্য দেয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই সময়ের দাবি একটাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ‘যোগ্যতা’কে অবিচলভাবে প্রতিষ্ঠা করা। নতুবা আজকের সামান্য শিথিলতাই আগামী দিনের বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।














