চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে আদালত চত্বরে দেখে একদিকে তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান উঠল, অন্যদিকে দেখা গেল তার ছবি তোলার আগ্রহ। রিমান্ড শুনানির জন্য ডনকে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে দেখা যায় এমন দৃশ্য। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এদিন শুনানি শেষে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানির জন্য ডনকে সকালেই আদালতে হাজির করা হয়। তাকে রাখা হয় ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। দুপুর ১টার পর তাকে হাজতখানা থেকে বের করা হয় এজলাসে তোলার জন্য। এসময় ডনের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট আর বুকে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। সংবাদকর্মী আর সালমানভক্তদের ভিড় ঠেলে ১টা ১০ মিনিটের দিকে ডনকে নিয়ে এজলাসে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। খবর বিডিনিউজের।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তখন অন্য মামলার শুনানি করছিলেন। ডনকে আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়। তার মাথা থেকে হেলমেট, দুই হাতের হাতকড়া খুলে এক হাতে দিয়ে কাঠগড়ার সাথে আটকে রাখা হয়। তবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তখনো গায়ে ছিল। এজলাসের সামনে সালমান ভক্তরা তখন স্লোগান দিচ্ছিলেন– ‘ডনের রিমান্ড চাই, ডনের ফাঁসি চাই’। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করেন।
কিছুক্ষণ পর বিচারক জুয়েল রানা বিরতিতে যান। এ সময় আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন ডন। কয়েকজন আইনজীবীকে ডনের ছবি তুলতেও দেখা যায়। আদালতে থাকা আরো অনেকে চান ডনের ছবি তুলতে। তবে পুলিশের বাধায় তা আর হয়ে ওঠেনি।
কালো ছাপা শার্ট, সাদা পাজামা আর হলুদ জুতা পরিহিত ডন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন নিজস্ব স্টাইলে। এসময় তাকে ঘামতে দেখা যায়। ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকী ফারুকী সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলা করায় সালমান শাহর পরিবারকে ভয়–ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ফরহাদ ওরফে রেজভী নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেজভী ওই মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেই স্বীকারোক্তিতে কীভাবে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়, কে কে হত্যায় অংশ নেয়, কত টাকায় হত্যা করা হয় তা উঠে আসে। পিপি ফারুকী বলেন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ আসামি গত ৯ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ৩০ বছর আগে একজন জনপ্রিয় নায়ককে হত্যা করা হয়। এরপর অনেক নায়ক, অভিনেতা আসছেন কিন্তু সালমান শাহর গান, সিনেমা এখনো এখনকার প্রজন্ম দেখে। যুগ যুগ ধরে এখনো মানুষের হৃদয়ে সালমান রয়েছে। মামলাটা নিয়ে জাতি উদ্ধিগ্ন, রহস্য বের হয়ে আসুক।
এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনও রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ডনের পক্ষে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক বলেন, একটা মানুষ মারা গেল, একটা মার্ডার কেস রেকর্ড হতে পারে না? পরে তিনি ডনকে ৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এরপর ডনকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথেও সালমানভক্তরা তার ফাঁসির দাবি জানান। তারা স্লোগান দেন– ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, ডনের ফাঁসি চাই’। পরে দ্রুততার সাথে ডনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।









