কাজে আসছে না পেকুয়া সাবমেরিন নৌ ঘাঁটি সড়কের দুটি কালভার্ট

গেটবিহীন হওয়ায় যখন-তখন কৃষি জমি ও লোকালয়ে ঢুকে লবণ পানি

দেলওয়ার হোসাইন, পেকুয়া | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা সাবমেরিন নৌ ঘাঁটি সড়কের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন অংশে নির্মিত ২টি কালর্ভাট কোনো কাজে আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এ দুই কালভার্টে সরকারের প্রায় ১ কোটি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কালভার্ট দুটি নির্মাণের সময় স্থানীয়দের ব্যাপক আপত্তি সত্ত্বেও সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ (সওজ) এক প্রকার জোর করে নির্মাণ করে এসব কালভার্ট।

জানা যায়, ২০১৭ সালে সাবমেরিন নৌ ঘাঁটি সড়কের সম্প্রসারণ করতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাতবর পাড়া ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোলাইয়াঘোনা চরপাড়া এলাকায় ২টি কালভার্ট নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এসব কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ১ কোটি টাকা। সড়কের পার্শ্ববর্তী ভোলাখালের সাথে সংযুক্ত রেখে গেইটবিহীন কালভার্ট নির্মাণ করা হলে সাগরের লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে সে সময় স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথ বিভাগে আপত্তি দিলেও আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানায়, নির্মাণ কাজ চলাকালে স্থানীয়রা কালভার্ট নির্মাণ বন্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। পরবর্তীতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে কাঠ দিয়ে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করে চলে যায়। কালভার্টের কাজ সমাপ্ত না হতেই জরাজীর্ণ কাঠ ভেঙে লবণাক্ত পানি ঢুকে পেকুয়া সদরের ভোলাইয়াঘোনা, উত্তর গোঁয়াখালী, পশ্চিম গোঁয়াখালী, মাতবরপাড়া বটতলীয়া পাড়া, মিটাবেপারী পাড়া এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ হওয়া এ কালভার্ট দুটি স্থানীয়দের গলার কাঁটায় পরিণত হয়। জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকে শত শত একর জমির বোরো আমন চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ভালাইয়াঘোনা সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহেদ ইকবাল বলেন, কৃষি জমির ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা না করে সওজ কর্তৃপক্ষের যে প্রকৌশলী কালভার্ট স্থাপনের ডিজাইন করেছেন তিনি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সড়কে ৫শ মিটারের ব্যবধানে দুটি স্লুইচগেট রয়েছে। সওজ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী এটি দেখেও জোয়ার ভাটার খালের সাথে লবণাক্ত পানি প্রবেশরোধের কোনো বন্দোবস্ত না রেখে খোলা কালভার্টের ডিজাইন করে দিয়ে ফসলি জমির ক্ষতি করে গেলেন। সে সময় স্থানীয়দের ক্ষতির কথা জানিয়েছিলাম, তারা কেউ স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে এটার খেসারত হিসেবে শত শত একর জমিতে বোরো আমন চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা পেকুয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করে। ইউপি চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ কালভার্টের স্থান পরিদর্শন করে কৃষকদের চাষাবাদের বিষয়টি আমলে নিয়ে কালভার্টের মুখ বন্ধ করতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেন। বর্তমানে এ দুটি কালর্ভাট কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয় কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গত বছর প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দে ১৫ ইঞ্চি ইটের দেয়াল নির্মাণ করে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেন। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আজিম বলেন, সদর ইউনিয়নের যে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয় এতে ২ ওয়ার্ডের ২০ হাজার মানুষের মধ্যে একজনেরও উপকারে আসছে না। তিনি বলেন, এ কালভার্ট এলাকার বহু পরিমাণ জমির চাষাবাদের ক্ষতির পাশাপাশি সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছে। এসব কালভার্ট নির্মাণকালীন সময় স্থানীয়রা সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকায় আন্দোলনও করেছিল। বর্তমানে দুই ওয়ার্ডের চাষাবাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

পেকুয়া সদর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কালভার্ট করার সময় আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, স্থানীয়রা মানববন্ধন ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ বন্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ কারো কথাই শুনেনি। স্থানীয়দের এত আপত্তি সত্ত্বেও তারা এক প্রকার জোর করে এ দুটি কালভার্ট নির্মাণ করে চলে যায়। পরবর্তীতে এ কালভার্ট দুটি স্থানীয়দের গলার কাঁটায় পরিণত হয়। জোয়ার ভাটা খালের পাশে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরিকল্পিত ভাবে এসব কালভার্ট নির্মাণে সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ কঙবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করতে মুঠোফোন একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএটা শাহবাগ নয়, মিস্টার আবদুল্লাহ : হাসনাতকে স্পিকার
পরবর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাহাড় শেষ