কনকর্ড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও গণপূর্তের প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আগ্রাবাদে ২৩ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে মেসার্স কনকর্ড ট্রেডিং কোং–এর স্বত্বাধিকারী, তার ভাই ও বোন এবং গণপূর্তের সাবেক এক প্রকৌশলীসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপ–পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত ৮ আসামি হলেন– মেসার্স কনকর্ড ট্রেডিং কো–এর স্বত্বাধিকারী মো. ফরিদ আহমদ, তার ভাই মোহাম্মাদ ফাহিম আহমেদ (আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী), মোহাম্মাদ ফয়েজ আহমদ, বোন রোকেয়া সুলতানা, শাহীন সুলতানা, হাসিনা মমতাজ, মা ফাতেমা বেগম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী (বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, বাগেরহাট) মোহাম্মাদ শাহ–আলম ফারুক। মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরীর ডবলমরিং থানার গোসাইলডাঙা মৌজার ২৪.৯৬ শতক সরকারি সম্পত্তি ও এর ওপর প্রতিষ্ঠিত তিনতলা বাণিজ্যিক ভবন নিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। লীজমূলে সম্পত্তিটির মূল মালিক ছিল ‘মেসার্স এস জে এন্ড জি ফজল এলাহী লি.’। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগের কারণে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সম্পত্তিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ হয়। এজাহারে আরো বলা হয়, ২০০২ সালে কনকর্ড ট্রেডিং কোম্পানির পক্ষে আসামি ফরিদ আহমদ ও হাসিনা মমতাজ সরকারের নিকট থেকে লিজ গ্রহণ করে মাসিক ভাড়া ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ না করায় এবং লিজ চুক্তি নবায়নের কোনো আবেদন বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় মন্ত্রণালয় তাদের লিজ চুক্তি বাতিল করে। এরই প্রেক্ষিতে আসামিরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সাব–রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড পুড়ে যাওয়ার অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭০ সালের আগের একটি ভুয়া সাব–রেজিস্ট্রি দলিল (দলিল নং–৩২৮০, তারিখ–১৫/০২/১৯৭০) তৈরি করেন। সাব–রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ওই দলিলের কোনো মূল রেকর্ড বা অস্তিত্ব না থাকার কথা জানানো হলেও আসামিরা জালিয়াতির মাধ্যমে তা টিকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে এই ভুয়া রেকর্ড ও দলিলের ভিত্তিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে নামজারির অনুমতি নেওয়া হয়। গণপূর্ত উপ–বিভাগ–২ এর তৎকালীন উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মাদ শাহ–আলম ফারুক সরেজমিন পরিদর্শন করে অনুকূলে প্রতিবেদন দাখিল করলে ফাতেমা বেগমের নামে নামজারি সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সেখানে কনকর্ড ট্রেডিংয়ের অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবনটি জবরদখল করে রাখা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, গোসাইলডাঙা মৌজার আর.এস খতিয়ান নং–১৩২১, দাগ নং–৬২০, ৬৬৮৯–এর ২৪.৯৬ শতক সরকারি জমির ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী মূল মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা এবং বকেয়া ভাড়া ও সুদ বাবদ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকাসহ মোট ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৯,৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন। তদন্তকালে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলার বাদী দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর উপ–পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে মামলা দায়েরের তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধপটিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. তিমিরের বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলা