কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়াসহ পালিয়েছেন অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার এক রোহিঙ্গা। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার পুরুষ ওয়ার্ড থেকে আসামি পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। ঘটনার সময় হাসপাতালে পাহারায় ছিলেন এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুই কনস্টেবল। পালিয়ে যাওয়া মোহাম্মদ ইব্রাহিম টেকনাফের হ্নীলার মোছনী ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ সলিমের ছেলে। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি। অহিদুর রহমান বলেন, পলাতক ইব্রাহিমকে ধরতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে চলে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী এলাকায় স্থানীয় এক যুবককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে ইব্রাহিম ও নুরুল আলম নামের দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেন স্থানীয়রা।
পরে তাদের মারধর করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশে তৈরি একটি পিস্তল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।
আটকরা আহত হওয়ায় প্রথমে তাদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য কঙবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নুরুল আলমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ইব্রাহিম হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ওসি আতিকুর রহমান বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের নজর এড়িয়ে ইব্রাহিম শয্যা থেকে উঠে পালিয়ে যান। তখন তার হাতে হাতকড়া ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।












