এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে কে এগিয়ে? স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা? রোববার দিবাগত রাতের ফাইনালে কাদের পাল্লা ভারী? লিওনেল মেসি বনাম লামিন ইয়ামালের লড়াইয়ে বাজিমাত করবেন কে? এই সব প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। ফাইনালের আগে কি চাপে থাকবেন মেসিরা? এই প্রশ্ন উঠতেই জবাব দিলেন মেসি। তাঁর মুখে পুরনো দিনের কথা। মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবলার হলেও তাঁকে মেসি বানিয়েছে স্পেন। বলা ভাল স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা। সেখানকার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমি থেকে তাঁর উত্থান। সেই একই অ্যাকাডেমি থেকে উঠেছেন ইয়ামাল। শুধু তিনি নন, স্পেনের এই দলের বেশ কয়েক জন ফুটবলার সেই অ্যাকাডেমির দান। ফলে তাঁদের খেলার ধরন যে মেসি জানবেন তা স্বাভাবিক। ফাইনালে নামার আগে সেই কথাই শোনা গিয়েছে মেসির মুখে। তাঁর মতে, স্পেন কেমন খেলবে সেই ধারণা তাঁর রয়েছে। মেসি বলেন, ‘স্পেন খুব ভাল একটা দল। বেশ কয়েক জন ভাল ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু ওদের আমার খুব ভাল করে জানা আছে। ওদের ফুটবল দর্শন এত বছর ধরে দেখছি। আমি জানি ওরা কেমন খেলবে।’ এ বারের স্পেন দলে সবচেয়ে বেশি ফুটবলার রয়েছে বার্সার। তাঁদের কয়েক জনের সঙ্গে বা বিরুদ্ধে মেসি খেলেওছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলেই মনে করেন তিনি। মেসি বলেন, ‘আমি ওদের অনেকের বিরুদ্ধে খেলেছি। এখনও ওদের খেলা দেখি। অনেকেই বার্সেলোনার ফুটবলার। যে ক্লাবটাকে আমি এখনও ভালবাসি। যে ক্লাবের খেলা এখনও দেখি। তাই আশা করছি খুব ভাল একটা ফাইনাল হবে। দু’দলই সমান শক্তি নিয়ে নামবে। ওদের কথা খুব বেশি ভাবছি না।’ ৩৯ বছর বয়সেও ২০ বছরের তরুণের মতো ছুটছেন মেসি। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৭৭ মিনিটে উঠে গিয়েছিলেন। জর্ডনের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসাবে নেমেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। বাকি সব ম্যাচে পুরো খেলেছেন। নকআউটে দু’টি ম্যাচে ১২০ মিনিট খেলেছেন তিনি। কী ভাবে এখনও এত ধকল সামলাচ্ছেন? তার নেপথ্য কারণও জানিয়েছেন মেসি। লিও বলেন, ‘আমি প্রায় এক বছর ধরে এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত বছর ডিসেম্বর মাসে আর্জেন্টিনায় ছিলাম। সকাল, বিকাল অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, সেরা ফিটনেস নিয়ে বিশ্বকাপে নামতে হলে নিজের সবটা নিংড়ে দিতে হবে। সে ভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। তার ফল পাচ্ছি।’ চলতি বিশ্বকাপ ধরলে অধিনায়ক হিসাবে শেষ চারটি বিশ্বকাপের তিনটিতে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন মেসি। ২০১৪ সালে পারেননি। ২০২২ সালে পেরেছেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। পর পর দু’বার সেই কীর্তির লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মেসি। বাকি আর একটি ম্যাচ। তার আগে অবশ্য খুব একটা চিন্তা করছেন না লিওনেল মেসি।











