মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিনই রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় বাড়ল প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল রোববার এক আদেশে বলেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসের জন্য অন্তর্বর্তী এ দর ঠিক করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। এর আগে গত ২ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে আরও ২১২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এক মাসেরও কম সময়ে এই সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৫৯৯ টাকা। তখন সৌদি আরামকোর ঘোষিত সিপি, জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বিবেচনায় এলপিজির দাম সমন্বয় করার কথা জানিয়েছিল বিইআরসি। তখন প্রতি টনে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম ধরা হয়েছিল প্রতি মেট্রিক টনে ১২০ মার্কিন ডলার। এখন সেই প্রিমিয়াম ২৫০ ডলার ধরে চলতি মাসের অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দর ঠিক করার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। খবর বিডিনিউজের।
কমিশন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট, ওই অঞ্চলে এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিকল্প পথে এলপিজি আনতে হওয়ায় সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দর সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ এবং কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য ঠিক করার কথা বলেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। খুচরা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ প্রতি কেজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা।
গত ২ এপ্রিল ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৮০১ টাকা। ১৯ এপ্রিলে তা বেড়ে ২০২১ টাকা করা হয়েছে। আর ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৯২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৮৯ টাকা। বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৬১ টাকা থেকে ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০৫ টাকা থেকে ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫৯৩ টাকা থেকে ২ হাজার ৯১০ টাকা এবং ২০ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৮৮১ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৩৩ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ১৬৯ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬০১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৩২১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দামও বেড়েছে। তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম ১৪০ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটারের দাম ৩১১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৫১ টাকা হয়েছে। আর প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।
এপ্রিলের জন্য প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৭৫০ ডলার এবং বিউটেনের ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা রয়েছে। ওই দুই গ্যাস ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপিজি হয়। তাতে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৮২ দশমিক ৫০ ডলার, যা মার্চে ছিল ৫৪১ দশমিক ৭৫ ডলার।
বিইআরসি বলেছে, এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সধারীরা বোতলজাতকরণের পর নির্ধারিত মূল্যে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে এলপিজি বিক্রি করবে এবং সেই অনুযায়ী মূসক চালান বা ডেলিভারি অর্ডার দিতে হবে। কোনো পর্যায়ে (এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউটর এবং ভোক্তাপর্যায়ে রিটেইলার পয়েন্টে) কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে এলপিজি/অটোগ্যাস বিক্রয় করা যাবে না।














