এডিআর শাখা কেবল নামে, কাজে নেই

চট্টগ্রাম কাস্টমস ।। গত ৭ বছরে আবেদন জমা মাত্র একটি শুল্ক সংক্রান্ত মামলা না হওয়ায় সেটিও নিষ্পত্তি হয়নি

জাহেদুল কবির | শুক্রবার , ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) শাখা বর্তমানে কেবল নামেই আছে। এই শাখায় বর্তমানে কাজ হচ্ছে না কিছুই। শাখাটিতে কাজের গতি আনার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে প্রায় ৭ বছর বন্ধ রয়েছে শাখার কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মামলা জটের কারণে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে বর্তমানে আপিল ট্রাইব্যুনাল, আপিল কমিশনারেট এবং উচ্চ আদালতে রাজস্ব সংক্রান্তসহ বিভিন্ন মামলা আছে প্রায় ১২ হাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিআর শাখা মূলত কাস্টমসের শুল্ক মূল্য সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা কাস্টমস ও আমদানিকারকদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে থাকে। এক্ষেত্রে আমদানিকারককে কাস্টমসের ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলা নামিয়ে এডিআরে আনতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন সময় কাস্টমসের পক্ষে থেকে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের চিঠি দেয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। জানা গেছে, এডিআর শাখায় গত প্রায় ৭ বছরে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র একটি। সেটি শুল্ক মূল্য সংক্রান্ত না হওয়ায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। তবে গত ২০১৬২০১৭ অর্থবছরে এডিআরে মামলা নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জমা পড়ে ১০২টি, বিপরীতে নিষ্পত্তি হয় ৯১টি। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৭২০১৮ অর্থবছরে এডিআরের কোনো কার্যক্রম ছিল না। সর্বশেষ গত ২০১৮২০১৯ অর্থবছরে এডিআরে আবেদন জমা পড়ে ২৪টি, এরমধ্যে নিষ্পত্তি হয় ২১টি। এসব মামলা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কাস্টমসে আবেদন জমা পড়েছে ১২৬টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টি মামলা এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এছাড়া বাকি ১৪টি নিষ্পত্তি হয়নি।

এডিআর শাখার কর্মকর্তারা জানান, এডিআর কার্যক্রম চালু রাখতে হলে কাস্টমস ও আমদানিকারক উভয় পক্ষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলেই কেবল এডিআর কার্যক্রম গতি পাবে। এডিআরের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি হলে কাস্টমস ও আমদানিকারক উভয়পক্ষ লাভবান হবে। উচ্চ আদালত ও কাস্টমসের আপিল ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন থেকে নিষ্পন্ন না হওয়া অবস্থায় রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেয় এনবিআর। সেই লক্ষে গত ২০১২ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যক্রমটি শুরু হয়। তবে বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সহযোগিতায় ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে এডিআর পদ্ধতিটি গতি পায়। এ পদ্ধতিতে আদালতের বাহিরে আমদানিকারক এবং কাস্টমসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে একজন নিরপেক্ষ সহায়তাকারীর মাধ্যমে দ্রুত সময়ে মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাহিদুন্নবী বলেন, এডিআর শাখা কাজ চালু করার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আসলে ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে মামলা নামিয়ে এনে কাস্টমসের কাছে আবেদন করতে হবেএটাই নিয়ম। তখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও সেটি নিরসনে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী এডিআরে আসতে চান না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, যাতে শাখাটির কাজ বেগবান করা যায়। কারণ এডিআরে মামলা নিষ্পত্তি হলে কাস্টমস ও ব্যবসায়ী উভয়পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপুরাতন ঘরের দেয়াল ভাঙতে গিয়ে চাপা পড়ে তরুণের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে আরও কয়েকদিন