আবু ধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনটি উইকেটের সামনে এবং পেছনে থেকে লিটন কুমার দাস দারুন রাঙ্গালেন। ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ কয়েকবার তিনি পেলেন ভাগ্যের ছোঁয়া। সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের জাদুকরী মাইলফলকে। বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন উইকেটরক্ষক–ব্যাটার লিটন দাস। আবু ধাবি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকান লিটন। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ১১৪ বলে ক্যারিয়ারের ৫৭তম টেস্টে সপ্তম সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। দু’বার জীবন পেয়ে ১৪টি চারে ১১৭ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। এই ইনিংস খেলার পথে টেস্ট–ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ডান–হাতি ব্যাটার। লিটনের আগে এই তালিকায় নাম তুলেছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক ৪৮২ ম্যাচে ৫৪৪ ইনিংসে ১৬২৫২, তামিম ৩৮৭ ম্যাচে ৪৪৮ ইনিংসে ১৫১৯২, সাকিব আল হাসান ৪৪৭ ম্যাচে ৪৯১ ইনিংসে ১৪৭৩০ এবং মাহমুদুল্লাহ ৪৩০ ম্যাচে ৪৩৩ ইনিংসে ১১০৪৭ রান করেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২৮৫ ম্যাচের ৩২৪ ইনিংসে ৯০৮৪ রান করেছেন লিটন। এরমধ্যে ৫৭ টেস্টে ৩৫১১, ১০৪ ওয়ানডেতে ২৮৬৯ এবং ১২৪ টি–টোয়েন্টিতে ২৭০৪ রান করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের সেঞ্চুরি সাতটি, ফিফটি ২০টি। ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পাঁচটি ও ফিফটি ১৪টি। আর টি–টোয়েন্টিতে ফিফটি ১৬টি। ২০১৫ সালের ১০ জুন টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় লিটনের।
পরে ফিল্ডিংয়ে নেমে গ্লাভস হাতে ভাঙলেন ২২ বছর পুরোনো এক রেকর্ড। চলতি টেস্টের শেষ ইনিংসে আফগানিস্তানের প্রথম তিন উইকেটে সবকটির ক্যাচ নেন লিটন। এর আগে প্রথম ইনিংসে চার ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি স্টাম্পিংও করেন তিনি। সব মিলিয়ে ৮টি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়লেন ৩২ ছুঁইছুঁই এই উইকেটকিপার। ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে দুই ইনিংসে তিনটি করে ক্যাচ নেন খালেদ মাসুদ। এর সঙ্গে প্রথম ইনিংসে করেন একটি স্টাম্পিং। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ম্যাচে তার ৭টি ডিসমিসালই এতদিন ছিল বাংলাদেশের রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে বরাবরই ছন্দময় লিটন। সামপ্রতিক সময়ে তার কিপিংও পেয়েছে নতুন মাত্রা। এরই যেন প্রমাণ এই আবু ধাবি টেস্ট। দুই ইনিংসে দারুণ কিছু ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রেও দেখিয়েছেন দারুণ ক্ষিপ্রতা। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকে ছিল লিটনের বড় অবদান। সেই তিন উইকেটের দ্বিতীয়টিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কাইস আহমাদের দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি দেন তিনি। এর আগে ইনিংসের শুরুতে শাহিদউল্লাহ মালিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার ক্ষেত্রেও চমৎকার ক্যাচ নেন অভিজ্ঞ এই কিপার।
বাংলাদেশের রেকর্ড নিজের করার পর বিশ্ব রেকর্ডও হাতছানি দিয়ে ডাকছে লিটনকে। টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড ১১টি। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের রিশাভ পান্ত দুই ইনিংস মিলিয়ে পেয়েছিলেন ১১টি ডিসমিসাল। আফগানিস্তানের বাকি সাত উইকেটের মধ্যে তিনটি ডিসমিসাল পেলেই বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসাবেন লিটন, চারটি পেলে সবাইকে ছাড়িয়ে তিনিই পৌঁছে যাবেন চূড়ায়।











