আগামী বেশ কয়েক মাসের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রয়োজনীয় ক্রুড অয়েলের যোগান অনেকটা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ৬ মে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে সৌদি আরব থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম পৌঁছাচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি অয়েল ট্যাংকার চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করেছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোহিত সাগর হয়ে জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এই জাহাজটির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, আগামী ৬ মে অপর একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে একই বন্দর থেকে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করবে। আগামী ২০ মে আরো একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসবে। ইতোমধ্যে আটকা পড়া এমটি নরডিঙ পল্যাঙ জাহাজটি হরমুজ পার হতে পারলে আগামী মাসের মধ্যে দেশে চার লাখ টন ক্রুডের বিশাল মজুত তৈরি হবে, যা দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি পুরোদমে উৎপাদন চালাতে পারবে।
অপরদিকে দেশে পরিশোধিত তেল আমদানিও বাড়ানো হয়েছে। আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৫টি জাহাজে প্রায় পাঁচ লাখ টন ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং অকটেন আমদানি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চাপে পড়েছে। এই সংকট ঘুচাতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে যাতে আগামী অন্তত তিন মাস জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না হয় তা অনেকটা নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা এবং স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। জাহাজটি আগামী ৬ মে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। এই জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর ইস্টার্ন রিফাইনারি পুরোদমে উৎপাদন শুরু করবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ক্রুড অয়েল পরিবহনের জাহাজ ম্যানেজসহ সবকিছু করে থাকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। ক্রুড অয়েল আমদানির এই জাহাজটিও ভাড়া করেছে বিএসসি।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক গতকাল আজাদীকে জানান, আগামী ৬ মে’র পর অন্তত তিন মাস দেশে ক্রুডের কোনো অভাব হবে না। ইতোমধ্যে আমরা তিন লাখ টন ক্রুডের আমদানি নিশ্চিত করেছি। এর মধ্যে একটি জাহাজ রওনা দিয়েছে। অপর একটি জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একই রুট ব্যবহার করে আগামী ৬ মে রওনা দেবে। অর্থাৎ চট্টগ্রামে যখন একটি জাহাজ পৌঁছাবে তখন সৌদি আরব থেকে অপর একটি জাহাজ রওনা দেবে। সেটি ১৮ মে নাগাদ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। এর দুদিন পর ২০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে অপর একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথ ধরবে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে আটকা পড়া এমটি নরডিঙ পল্যাঙ জাহাজটিকেও দেশে নিয়ে আসার কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে। এটিও যে–কোনো দিন চট্টগ্রামের পথ ধরবে। চার লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির অন্তত তিন মাসের কাঁচামাল নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির কলাম ডিজাইন এমনভাবে করা, এই রিফাইনারিতে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রুড ছাড়া অন্য দেশের ক্রুড পরিশোধনের সুযোগ নেই। ফলে মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নিয়েও সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন ক্রুড পরিশোধন করতে পারে, যা দেশের প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার ২০ শতাংশের মতো। দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার ৯২ শতাংশ আমদানি করা হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে যোগান দেওয়া হয়। দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর বেশিরভাগই পরিশোধিত।
এদিকে বিপিসি দেশের জ্বালানি সংকট মেটাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। আগামী মাসের তেল আমদানির বিষয়টি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৫টি জাহাজে প্রায় পাঁচ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে বলে বিপিসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।














