ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

| বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রাসুল (সা.)-এর সীরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়, সীরাতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে আমাদের জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের আচারআচরণ দেখে অন্যান্য জাতিধর্মের মানুষকে শিখতে হবে। বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার নগরীর ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাহফিলে প্রধান মেহমান ছিলেন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আলমাদানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাহবারে বায়তুশ শরফ হযরত শাহ মাওলানা আবদুল হাই নদভী।

প্রধান ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য দেন, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। বিশেষ ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য দেন, মুফতি মাওলানা আলী হাসান ওসামা। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি ও বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাওলানা সাইয়েদ মোহাম্মদ আবু নোমান।

. আ ফ ম খালিদ বলেন, বর্তমানে আমরা পোশাকে আশেকে রাসুলের পরিচয় দিলেও অনেকের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নেই। রাসুল (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করলেই কেবল সত্যিকার মুসলিম হওয়া সম্ভব। ঘরে ঘরে কোরআনের তালিম বাড়াতে হবে এবং উম্মাহর ঐক্য জোরদার করতে হবে। দ্বীনের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উম্মাহর কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের সম্মান অর্জন করতে হলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। মদীনার আদর্শভিত্তিক জীবনব্যবস্থা কায়েম না হলে দেশে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না। দলপ্রীতি থাকতে পারে, তবে দলকানা মনোভাব জাতির জন্য সুখকর নয়। কাজ করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মাহফিলে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, আইআইইউসি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মাওলানা আবু বকর রফিক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা গিয়াস উদ্দীন তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন চবি আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আ ক ম আবদুল কাদের, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আহমদ আলী, চবি প্রফেসর ড. মাওলানা শফিউল্লাহ কুতুবী এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী। মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন শেখেরখীলের হযরত শাহ মাওলানা মুহাম্মদ ইছহাক, ফিরোজশাহ্‌ কলোনী বড় মাদ্রাসা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম, দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মকছুদ আহমদ, চবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা এ বি এম ছিদ্দীকুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল হক নিজামী, হযরত মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, গারাঙ্গিয়ার পীর হযরত শাহ মাওলানা আনোয়ারুল হক মজিদী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হক, প্রফেসর মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ পীর সাহেব চরকানাই, পটিয়া, হযরত শাহ মাওলানা মুনিরুল মান্নান কুতুবী, প্রফেসর ড. মাওলানা নেজাম উদ্দিন, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মুহসিন ভূঁইয়া, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন ও পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের দাবি
পরবর্তী নিবন্ধ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ৫ সেপ্টেম্বর