বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় ম্যুরাল শিল্প এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি কেবল দেয়ালে আঁকা চিত্র নয়; বরং ইতিহাস, সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও জনমানুষের স্বপ্নের এক দৃশ্যমান দলিল। ম্যুরাল শিল্প নগরজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে দৃশ্যমান করে তোলে।
২০২১ সাল। বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন সকালে নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে যাওয়ার সময় হঠাৎই নজরে এলো নগরীর লাভ লেইন সড়কের মধ্যবর্তী সড়ক বিভাজনে থাকা ‘ষড়ঋতুর বাংলাদেশ’ শিরোনামের ১২টি ম্যুরাল। অনেকটা মুগ্ধতা, আর কিছুটা আগ্রহ থেকেই শিল্পীর নাম খুঁজে দেখার চেষ্টা করলাম। নামফলকের দেখা পেলেও বড় বড় অক্ষরে লেখা উদ্বোধক ও আলোচিত ব্যক্তিদের নামের শেষে শিল্পীর নাম খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হলো। নামফলকের একেবারে নিচে, যেখানে আগাছা ও তরুলতার আড়ালে অনেকটাই ঢাকা, সেখানে ছোট করে লেখা ছিল– ‘শিল্পী: শ্রীকান্ত আচার্য’। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল। এমন অসাধারণ সৃষ্টির মূলে যিনি, তাঁর নামটি হয়তো সবার আগে না হলেও অন্তত এমন একটি দৃশ্যমান স্থানে থাকা উচিত ছিল, যেখানে দর্শকের চোখ সহজেই পৌঁছায়। অথচ আমাদের সমাজে শিল্পকর্ম আলোচনায় এলেও শিল্পী অনেক সময় আড়ালেই থেকে যান।
ম্যুরাল শিল্পীরা আজও অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত। অথচ তাঁদের সৃষ্টিই শহরের দেয়ালে ইতিহাস, প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের অনুভূতিকে জীবন্ত করে রাখে, প্রজন্মকে শেখায় সঠিক ইতিহাস। আমরা চাইলে এই শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দিতে পারি–তাঁদের নাম সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে, তাঁদের কাজের পরিচিতি বাড়িয়ে, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের নিয়ে আলোচনা করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের অবদান তুলে ধরে।












