দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগকে সম্মানিত ও গর্বের মনে করছেন বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদ। আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চিত টাইগার পেসার। ২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ঐ সিরিজে খেলা কোন খেলোয়াড় বর্তমান বাংলাদেশ দলে নেই। তাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে পারাটা গর্বের বলে মনে করেন তাসকিন। ডারউইনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলা আমাদের সব ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।’ ২০১২ সালে যুব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। ঐ আসরে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়াতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও আসন্ন টেস্ট সিরিজ সহজ হবে না বলে মনে করেন তাসকিন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য সিরিজটা সহজ হবে না। সিরিজে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে আশাবাদী।’ অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল বলে অ্যাখায়িত করেছেন তাসকিন, ‘অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ টেস্ট সিরিজের আগে ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ’–এর বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটি ইনিংস ও ৩৮ রানে হারে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচের হার টেস্ট সিরিজে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে জানান তাসকিন। তিনি বলেন, ‘হেরে যাওয়ার অনুভূতিটা অবশ্যই সুখকর ছিল না। ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। আমরা এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। ম্যাচ হারলেও ভালো প্রস্তুতি হয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৬ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এমধ্যে ৫টিতে হার ও ১টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এছাড়া গত জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতিগুলো থেকে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন তাসকিন। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে দারুণ খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছিলাম। ঐ সিরিজ আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তবে হোম ও অ্যাওয়ে কন্ডিশনের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে। দেখা যাক এবার কি হয়।’ ১৩ আগস্ট থেকে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।










