রাউজানের ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরের নালা–নর্দমা ও ঝোপ ঝাড়ের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এখন মশার ঊর্বর প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের ভয়াবহতার মধ্যে রাউজানের এই সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এমন দশা দেখে এলাকার মানুষ এলাকায় ডেঙ্গু–ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তারের শংকায় আছে। গত ২০ জুলাই সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাইরে নালায় জমে থাকা পানিতে নানা রকম পোকা কিলবিল করছে। লতাপাতার ঝোপে ভন ভন করছে মাছি ও মশা। দুটি ওয়ার্ডে দুইজন এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন। মশারির ভিতর থাকা তাদের মধ্যে একজন মহেষখালীর নজির আহমদ (৫৫), অপরজন স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক তারেকুল ইসলাম। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, এখানে এর আগে পাঁচ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। একজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা দুজনকে দুয়েকদিনের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাইরের নালা–নর্দমা ও লতাপাতা পরিষ্কার এবং পাশের একটি ভবনের সংষ্কার কাজের জন্য ছয় লাখ টাকার বেশি ব্যয় বরাদ্দে টেন্ডার আহ্বান করেছিল। কিন্তু এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। উপজেলার বড় সরকারি এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির এমন পরিবেশের কথা জানতে চাইলে স্থানীয় (রাউজান সদর ইউনিয়ন) চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারপাশে থাকা নিচু রাস্তাসহ প্রতিটি অবকাঠামো উঁচু করায় একতলা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিচু হয়ে গেছে। এতে করে গত প্রায় দুই দশক থেকে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চারপাশ পানিতে ডুবে থাকছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর জানান, প্রতিষ্ঠানটির চারদিকের রাস্তা উঁচু। বৃষ্টি হলে হাসপাতাল চত্বর পানিতে ডুবে থাকে। সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ রক্ষায় তিনি চেষ্টা করে আসছেন। নালা–নর্দমা পরিষ্কার ও পাশের একটি ভবনের সংষ্কার কাজ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর ছয় লাখ টাকা বরাদ্দে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে বলে জানান।














