৩ হাটের জন্য ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান, অনুমতি আছে ৬টির

অন্যগুলোতে ইজারাদার নিয়োগ করা না গেলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে চসিক

মোরশেদ তালুকদার | বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ at ৮:২১ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরে ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি পেয়েও মাত্র ৩টি হাটে ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অথচ সংস্থাটি এবার ১৬টি হাট বসানোর অনুমতি চেয়েছিল জেলা প্রশাসনের কাছে। অনুমতি পেয়েছে ৬টি হাটের। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে অনুমতি পাওয়ার পরও কেন অপর ৩টির দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে না? শেষ পর্যন্ত হাটগুলোতে ইজারাদার নিয়োগ করা না গেলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে চসিক।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, ইজারা নিতে আগ্রহী নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে আপাতত তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান থেকে বিরত রয়েছে চসিক। দ্বন্দ্বে জড়ানো দুই পক্ষই চাচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে বিনা দরপত্রে হাট দুটি ইজারা নিতে। সেক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে কিনা সেটা ভাবছেন চসিকের দায়িত্বশীলরা। এ বিষয়ে জানার জন্য গতকাল চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামালকে মোবাইলে একাধিবার কল দিলেও ধরেননি।

জানতে চাইলে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, হাট ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে এবার কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছি। যেখানে হাট বসালে পরিবেশের ক্ষতি হবে সেখানে ইজারা দিব না। আবার সিটি কর্পোরেশন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটাও দেখছি। দরপত্র আহ্বান করার পর গতবার কিছু হাটে রেইট পড়েছিল অনেক কম। সেটাও আমরা এবার আমলে নিয়েছি। সিটি কর্পোরেশনের লস করে কিছু করতে রাজি না। মেয়র বলেন, এবার বর্ষাকাল। যারা হাট নিবে তারা ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবে কীনা সেটাও আছে। আবার জলাবদ্ধতার বিষয় চিন্তা করে খালপাড়েও কোনো হাট না বসাতে বলে দিয়েছি।

দরপত্র আহ্বান করা তিন হাট : চসিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার তিনটি হাটের জন্য ইজারাদার নিয়োগে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্ব বিভাগ। আজ (বৃহস্পতিবার) পত্রিকায় এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। হাটগুলো হচ্ছেকর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়। এদিকে অনুমতি পাওয়ার পরও দরপত্র আহ্বান না করা হাট তিনটি হচ্ছে৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহমদ পাড়া সাইলো রোডের পাশের টিএসপি মাঠ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডে সিডিএ বালুরমাঠ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দবাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশের খালি জায়গা।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কাছে ১৬টি হাট বসানোর অনুমতি চায় চসিক। হাটগুলো হচ্ছে৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণফুলী পশু বাজার (নূর নগর হাউজিং), ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পার্শ্বে খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পার্শ্বে টিএসপি মাঠ, ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী হাট, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডস্থ সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, হালিশহর পুলিশ লাইনের সামনে রাস্তার পাশ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন মহেশ খালের দুই পাড়ের খালি জায়গা, মাদারবাড়ী পোর্ট সিটি হাউজিং এর খালি জায়গা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজার, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোড, সিডিএ বালুর মাঠ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়া বারুনিঘাটা মাঠ ও মোহরা ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডের জানালী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পরিত্যক্ত খালি জায়গা ও অলংকার গরুর হাট।

এর মধ্যে গত পরশু ১৩ শর্তে কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহমদ পাড়া সাইলো রোডের পাশের টিএসপি মাঠ, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডে সিডিএ বালুরমাঠ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দবাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষ প্রতিবছর বছর ১ থেকে ১০ জিলহজ্ব পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ব্যবস্থাপনায় নগরে কোরবানি পশুর স্থায়ীঅস্থায়ী হাট বসে। গতবার অস্থায়ী হাট বসেছিল ৭টি। অস্থায়ী হাটের বাইরে নগরে চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হচ্ছেসাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
পরবর্তী নিবন্ধথানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানি