১১৫ দিনের অবরুদ্ধতা শেষে হরমুজ পেরোল ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’

স্বস্তি ফিরল ৩১ নাবিকের মনে

হাসান আকবর | মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ৩:০৮ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ ১১৫ দিনের অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই নৌপথ পাড়ি দেয় জাহাজটি। এর মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটে।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সে সময় জাহাজটির গতি ছিল প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পর হরমুজ পার হতে পেরে জাহাজের সবাই স্বস্তি অনুভব করছেন। তাঁর ভাষায়, এ যেন দীর্ঘদিন পর মুক্তির স্বাদ পাওয়ার মতো।

বিএসসি সূত্রে জানা যায়, জাহাজটি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রমের সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজটির অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদে যাত্রা নিশ্চিত করা হয়।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত না হলেও সীমিত পরিসরে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জাহাজ চলাচল করছে। নানা পর্যায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই বাংলার জয়যাত্রা নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

জাহাজটির দীর্ঘ যাত্রাপথও ছিল ঘটনাবহুল। গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এটি। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরপরই ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে বাংলার জয়যাত্রা পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে।

জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জাহাজটি যাত্রা পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতে এ ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করলেও জাহাজটি এবং এর সব নাবিক নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছেন। ফলে অনিশ্চয়তার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন বন্দরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল কলেজেছাত্রীর