নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ১১ তলা ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুই যুবক। গত সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুরে ভবন মালিকের এক ছেলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ভয়েস দেয়া হয়। এদিকে গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
যে ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় সেটার নাম রুনা টাওয়ার। ভবনের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তার দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায়। ইউসুফ নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। বর্তমানে কারাগারে আছেন আজিজ।
নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, ভবন মালিকের দুই ছেলে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। তার বড় ছেলে দেশে এসেছে। তার মোবাইলে কয়েক দিন আগে একটি ইন্টারনেট নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করছি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সবকিছু খতিয়ে দেখছি।
ভবন মালিক ইউসুফ জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। যেখানে এক ঘণ্টার মধ্যে বড় ভাইয়ের কথামতো ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া একই ভয়েসে ইউসুফের ছেলেমেয়েরা কোথায় কী করেন, তাদের জীবনবৃত্তান্ত এবং কোথায় কোথায় বাড়ি আছে, সবই তাদের জানা আছে বলা হয়। ভবনটির কেয়ারটেকার মো. আলমগীর জানান, রাতে হঠাৎ প্যান্ট–শার্ট পরা দুই যুবক এসে তাকে গেটের ভেতরে রেখে বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে ওই দুই যুবক গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে হেঁটে চলে যান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকায় জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।











