দুই হাত নেই, তবু থেমে নেই স্বপ্নপূরণের লড়াই। পা দিয়ে লিখেই একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে সীতাকুণ্ডের রফিকুল ইসলাম রাব্বি। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাওয়ার পর এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ–৫ অর্জন করেছে সে। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবারও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে রাব্বি। গতকাল শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দিত হন স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দুই হাত হারিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক ভালো ফল করে রাব্বি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় রাব্বির জন্য কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল। সমান উচ্চতার দুটি বেঞ্চ পাশাপাশি বসিয়ে তার ওপর বসে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেয় সে। সেই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এসএসসিতেও জিপিএ–৫ অর্জন করে রাব্বি।
রাব্বির সংগ্রামের গল্প অবশ্য আরও পুরোনো। ২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মুখে কলম ধরে লিখে জিপিএ ৪.৮৩ পেয়েছিল সে। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে ধীরে ধীরে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলে রাব্বি। পরবর্তী সময়ে সব শ্রেণির পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখেই উত্তীর্ণ হয়েছে সে। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি মেলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায়। দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ–৫ অর্জন করে নিজের অধ্যবসায় ও ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দিয়েছে রাব্বি।
রাব্বির জীবনের কঠিন অধ্যায়ের শুরু ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। ওই দিন ভাটিয়ারী হাজী টিএসসি উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে। বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় রাব্বি। এতে তার দুই হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে বিজয় সরণি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষার্থী তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তার দুই হাত।
দুই হাত হারিয়েও হার মানেনি রাব্বি। প্রথমে মুখে কলম ধরে লেখা শুরু করে। পরে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস রপ্ত করে। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এসএসসি ও এইচএসসি–দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ–৫ অর্জন করেছে সে।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। আইসিডিডিআরবির গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন। ওসমান নামের এক শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়েছেন। বিভিন্নজনের সহযোগিতায় ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।










