স্বাস্থ্যসেবার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে

ডা. আর. কে রুবেল | শুক্রবার , ৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্য অন্যতম। দেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশই গ্রামীণ। গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবার মান ও প্রাপ্যতার উপরই নির্ভর করে একটি পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যচিত্র। গ্রামের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা অবকাঠামো মোটেই সবল নয়, আবার সামাজিকভাবেও স্বাস্থ্য সচেতনতাগত দুর্বলতাও বিদ্যমান। তাদের কাছে রোগ নিরাময়ের বড় অবলম্বন গ্রামীণ চিকিৎসাব্যাধি, যেমনপানিপড়া, তাবিজকবচ, মন্ত্র, মানত, তন্ত্রমন্ত্র ইত্যাদি। এক্ষেত্রে শিক্ষার বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য। কেননা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অন্ধবিশ্বাস সামাজিক কুপমণ্ডুকতাকে টিকিয়ে রেখেছে। অজ্ঞানতা বোধশক্তিকে দুর্বল করেছে। রোগবালাইমুসিবতকে মনে করা হয় দৈব ইচ্ছায় এসব হচ্ছে। এসব গ্রাম সমাজের এমনতর মনোজগত সত্যিকার অর্থেই তাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে জিইয়ে রেখে গেছে। শিশুকালীন অপুষ্টি একজন পরিণত মানুষকে সারাজীবন দুর্বল করে রাখে। এমনকি শিশুকালে যে টিকাগুলো নেয়া আবশ্যিক তা গ্রাম সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকাংশ মানুষের বোধগম্য নয়। এ কারণেই গ্রামসমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যচিত্র রোগাক্রান্ত। আমরাতো প্রায় দেখি গ্রাম সমাজে যখন রোগব্যাধি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে তাৎক্ষণিক সামাল দেয়াটা কত কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস সেন্টার শহরে যতটুকু কার্যকর গ্রামে ততটুকু নয়। এর মাধ্যমে অতিজরুরি ১৮টি ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া সম্ভব হলেও আসলে তা কতটুকু সম্ভব তার কোন পরিমাপ যন্ত্র নেই। বিষয়টি কেতাবে আছে, অথচ বাস্তব নয়। মোটাদাগে বলা যায়, রাষ্ট্রের পুরো স্বাস্থ্যখাতটি এখন সামাজিক বাস্তবতার সাথে ভারসাম্যমূলক নয়। শহরের একজন মানুষ যতটুকু সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবা ভোগ করে তার তুলনায় গ্রামের মানুষ শতকরা হিসেবে খুবই নিম্ন হারে ভোগ করতে পারে।

আমাদের দেশের কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস সেন্টার থেকে যে সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষ পাওয়ার কথা তার ন্যূনতম পরিমাণ শতকরা ১০ ভাগও পাওয়া যেত তা হলে স্বস্তি পাওয়া যাবার কথা। কিন্তু তাতো হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না সেই প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর পাওয়া মুস্কিল। কেননা, আমাদের দেশের যতগুলো হেলথ কমিউনিটি সেন্টার আছে তার জবাবদিহিতা নেই। দেশের স্বাস্থ্যচিত্র শহরে যতই ধোপদুরস্থ দেখাক না কেন গ্রাম সমাজে ততটা নয়এর কারণ নানাবিধ। তাই গ্রাম সমাজের রোগব্যাধি ও বালামুসিবতকে কপাল দোষ হিসেবে মেনে নেয়ার পশ্চাৎপদ প্রবণতা বদলে দিতে সচেতনতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার আলো ফেলতে হবেগ্রাম সমাজের স্বাস্থ্য সবল হবে এবং জাতি হিসেবে আমরা শক্তিশালী হবো। তাই তার আগে আমাদেরকে গ্রাম সমাজের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবার আলো পৌঁছে দিতে হবে এবং কিভাবে পৌঁছে দেয়া সম্ভব তা সর্বাগ্রে বিবেচনায় আনতে হবে। লেখক: চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : সৃষ্টিতে অমর
পরবর্তী নিবন্ধকন্যা সন্তান হলেই পাত্রস্থ করতেই হবে