সন্দ্বীপে পেটে লাথি মেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহাবুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন– মো.মামুন। তিনি সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপারের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড হয়েছে জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী সেকান্দর আলী জানান আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে অপর একটি ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। পাশাপাশি আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামুনের চাচা ইমাম হাফেজকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালতসূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ মে সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপারের গুচ্ছগ্রামে স্বামী কর্তৃক লাথি মেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় রাবেয়ার ভগ্নিপতি কামাল পাশা বাদী হয়ে মামুন ও তার চাচা ইমাম হাফেজের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, তিন কন্যার জননী রাবেয়া বেগম সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার দিন ঘরে ফিরলে রাবেয়া বেগম তার স্বামী মামুনের কাছে ওষুধ এনেছে কি না জানতে চান। মামুন ওষুধ না আনায় এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মামুন রাবেয়ার তলপেটে লাথি মারেন। এতে রাবেয়া ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে রাবেয়ার লাশ রিকশা ভ্যানে করে পাশের একটি বিলে নিয়ে গিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় মামুন। এরপর রাবেয়ার বাড়িতে মামুন খবর পাঠায়, রাবেয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
রাবেয়ার স্বজনরা অনেক খুঁজে বিলে তার লাশের সন্ধান পায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশের ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, রাবেয়ার গর্ভের দুটি সন্তানই ছিল ছেলে। মায়ের সাথে সেদিন তাদেরও মৃত্যু হয়।













