বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এ বার স্পেনকে সবচেয়ে আগে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভারসাম্যে দল বেছেছেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। ফুটবলারাও আছেন ভাল ফর্মে। সেই স্পেনকেই রুখে দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করলো প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে।
ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল স্পেনের। বল ছিল মূলত কেপ ভার্দের অর্ধেই। তবু গোলপোস্টের সামনে বার বার আটকে গেল স্পেনের ফুটবলারদের সমস্ত প্রচেষ্টা। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার হোসে এভোরা ডায়াস প্রাচীর তুলে দিলেন স্পেনের সামনে। অন্তত পাঁচ বার দলের নিশ্চিত পরাজয় রুখলেন। তার আত্মবিশ্বাস, রিফ্লেক্স বার বার হতাশ করল স্প্যানিশদের। ভোজিনিয়া নামেই বেশি পরিচিত এই গোলরক্ষক। বয়স ৪০। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অন্যতম সেরা গোলরক্ষক তিনিই।
মাত্র ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন আর মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, বর্তমান ইউরো জয়ী এবং এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিটদের কাছ থেকে পয়েন্ট আদায় করে নেওয়া ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বর দলটির কাছে জয়ের চেয়ে কম কী!
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ‘এইচ’ গ্রুপের স্পেন–কেপ ভার্দের খেলা গোলশূন্য ড্র (০–০) হয়। গোলের উদ্দেশ্যে মোট ২৭টি শট নেয় স্পেন, যেখানে কেপ ভার্দের শট ছিল মাত্র ৬টি। স্পেনের ৭টি শট লক্ষ্যে থাকলেও সেগুলোর একটিও জালে জড়াতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে মিকেল ওইয়ারসাবাল, এমেরিক লাপোর্তে এবং ফেরান তোরেসের নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। এছাড়া স্পেনের সেরা সুযোগগুলোর একটি থেকে নেওয়া তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, কেপ ভার্দেও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপদ সৃষ্টি করেছিল। তবে ভালোমানের ফিনিশারের অভাবে তারা গোলের দেখা পায়নি।
প্রথমার্ধে বারবার গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ও কেপ ভার্দের রক্ষণে আটকে যাচ্ছিল স্পেনের আক্রমণ। শেষ দিকে এসে খোলস ছেড়ে বের হয় স্প্যানিশরা। তবে গোলের দেখা পায়নি। তোরেসের শট প্রতিহত হয় ক্রসবারে লেগে। ফিরতি বলে ওইয়ারসাবালের নেওয়া হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তোরেস ও লাপোর্তের দুটি নিশ্চিত আক্রমণ রুখে দেন ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ স্পেনকে গোলবঞ্চিত রাখে প্রথমার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও স্পেনকে আটকে রাখে কেপ ভার্দে। অবস্থা বেগতিক দেখে ৭০ মিনিটে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামান কোচ। ইয়ামালের এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেক হলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্পেনের আক্রমণভাগকে নিষ্প্রভ করে রাখে কেপ ভার্দে। ফলে গোলশূন্যভাবেই ম্যাচ শেষ হয়। হতাশ স্পেনকে মাঠ ত্যাগ করতে হয় এক পয়েন্ট নিয়ে। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। সেটি হতাশার নয়, বরং এক স্বপ্নপূরণের আনন্দ।
.











