দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা শেষে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি আউলিয়া কক্সবাজারের বিডাব্লিউটিএ জেটিঘাট ছেড়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। তাদেরকে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করা হয়। এতে নির্জীব সেন্টমার্টিনে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
প্রথমদিনে সেন্টমার্টিন বেড়াতে যেতে ভোর থেকেই ঘাটজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু–বান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভ্রমণ দল নিয়ে শত শত মানুষ জড়ো হন ঘাটে। সেন্টমার্টিন যেতে পেরে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিযুক্ত প্রতিনিধি ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ভূমি কমিশনার মশিয়ুর রহমান জানান, মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ–পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। দুপুরের দিকে নিরাপদে জাহাজটি সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছে। এরপর পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগে ছড়িয়ে পড়ে।
সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন মৌসুমে প্রথম দিনেই ৮ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছে। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছালে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে সেখানকার বাসিন্দারা। বাহাদুর বলেন, জাহাজ, সাগর আর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ দূষণের বিষয়ে পর্যটকদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। যাতে প্লাস্টিকের বোতল থেকে শুরু করে পরিবেশ নষ্ট হয়– এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক রউসুল আমিন বলেন, কক্সবাজার বেড়াতে এসে সেন্টমার্টিন যেতে না পারলে ভ্রমণের আনন্দ পূর্ণতা পায় না। তাই অনেক দিন চেষ্টা করেছি– সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়ার সেই আশা পূর্ণ হওয়ায় খুব খুশি লাগছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হাসান মুরাদ বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ মেলায় বেশ খুশি। তবে বেশ বিধিনিষেধ রয়েছে। তারপরও বিধিনিষেধ মানতে হবে। দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সবাই সচেতন থাকবে। আমরা কেউ যেন প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলে দ্বীপের ক্ষতি না করার চেষ্টা করবো।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, নৌপথ চালু হওয়ার মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। স্থানীয় মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পর্যটন। তাই, মৌসুমের সফল সূচনা তাদের মাঝেও আশার সঞ্চার করেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার কমানো, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভ্রমণ করা এবং প্রবালসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করাই অন্যতম শর্ত। মৌসুমের প্রথম যাত্রায় শত শত পর্যটকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশাবাদ সবমিলিয়ে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌপথে নতুন মৌসুমের যাত্রা পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
প্রতি বছরের ন্যায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে এই রুটে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পর্যটন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।











