সুশিক্ষার অভাবে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ নিয়েছে

বাবুল কান্তি দাশ | শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

স্বাধীন মানে, স্বঅধীন। নিজেকে নিজের আয়ত্তে রাখা। নিজে শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত হলে অপরকে তাতে সম্পৃক্ত করা, উদ্বুদ্ধ করা, উজ্জীবীত করা সহজতর হয়ে উঠে। কাউকে কিছু বলার আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ চলনে প্রবৃত্ত রাখা মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। সৎ এ সংযুক্ত থেকে তদনুগ চলনে চলায় মানবজীবনের সার্থকতা। প্রকৃত শিক্ষার অভাবে বর্তমান সময়ে সকল পর্যায়ে স্বাধীনতাকে আমরা স্বেচ্ছাচারিতায় রূপ দিয়েছি। স্বেচ্ছাচারিতার লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে আমাদের বোধ, বুদ্ধি, চেতনা। দিন দিন পরম অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছি আমরা। শিক্ষকদের উপর শিক্ষার্থী এবং অন্যান্যদের যে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সুশিক্ষার কতো অভাব। সুশিক্ষার বিস্তার ও বিস্তরণে এবং শিক্ষকদের মান মর্যাদা সুরক্ষায় সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়াসী হতে হবে। শিক্ষা এবং শিক্ষকদের চার পাশের পরিবেশ দেখে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সুশিক্ষার যে কতো অভাব ! বহুল উচ্চারিত এবং পঠিত একটি বাণী – ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।’ এই মেরুদণ্ড এখন বেঁকে গেছে বলে প্রতীয়মান। বহুল উচ্চারিত এই বাক্যটি আজ বড্ড বেশি অবহেলিত। এটিকে যদি পুষ্ট রাখতে না পারি সবকিছুই ভেঙে পড়বে অবলীলায়। শিক্ষার শিরদাঁড়া সোজা রাখতে যাদের ত্যাগ অনস্বীকার্য তাঁরা হচ্ছেন শিক্ষক। শিক্ষকরা বিশেষত বেসরকারি শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে অবহেলিত এবং উপেক্ষিত। ক্ষেত্রমতে অত্যাচারিত। কেন শিক্ষকরা আর্থসামাজিক মানদণ্ডে মান্যতা পাচ্ছে না। স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা জাতীয়করণে প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা কেন আমলে নেওয়া হচ্ছে না ? কেন গড়িমসি শিক্ষা জাতীয়করণে। শিক্ষা জাতীয়করণ মানে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় সর্বোপরি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধায়ন এবং মূলধারায় সম্পৃক্তকরণ। উন্নত জীবন যাপনে আশ্বস্তকরণ।

সুশিক্ষার বিস্তার ও বিস্তরণে এবং শিক্ষকদের আর্থসামাজিক মানমর্যাদা সুরক্ষায় মনোযোগী না হলে স্বাধীনতাকে আজ যে স্বেচ্ছাচারিতায় উপনীত করেছি তা রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলস্বরূপ জাতি ও রাষ্ট্র অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। সুশিক্ষার অভাবজনিত কারণে স্বাধীনতা যে ধীরে ধীরে স্বেচ্ছাচারিতায় উপনীত হচ্ছে তা একদিন মহীরুহ হয়ে পুরো জাতিকে গ্রাস করবে। তাই আসুন সময়ক্ষেপণ না করে ইগো এবং চালাকি রহিত হয়ে শিক্ষা এবং শিক্ষককে যথার্থ বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা জাতীয়করণে মনোনিবেশ করি। বিভেদ বৈষম্যের অশুদ্ধ চেতনা পরিহার করি। সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রয়াসী হই। দুর্বৃত্তায়ন, অসাধুতা, অসংলগ্নতার হাত থেকে মুক্ত হই। সত্য, ন্যায় সুন্দরে পথচলা সুদৃঢ় হোক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইতিহাসের পাতায় আশুরা : গ্লানির নয় বরং গৌরবের
পরবর্তী নিবন্ধতরুণ প্রজন্ম ও ‘ভেপিং’ মহামারি: প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি