প্রতিরোধের দেয়ালে চিড় ধরল প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়ল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে রাজ চৌধুরী দারুণ কিছু সেভ করলেও আক্রমণভাগের কেউ এনে দিতে পারল না কাঙ্ক্ষিত গোল। সিরিয়ার বিপক্ষে হেরে এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পেরুনোর পথটা কঠিন হয়ে গেল জেরার্ড জোন্সের দলের। তাসখন্দের দস্তলিক স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে সিরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। যুবাদের এটি টানা দ্বিতীয় হার।
এই গ্রুপের স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২–০ গোলে হেরে বাছাই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আগামী রোববার গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা সাত রানার্সআপসহ মোট ১৫ দল যাবে মূল পর্বে। আগামী বছর এই আসরের আয়োজক হিসেবে চীন খেলবে সরাসরি। সিরিয়া ম্যাচের হারে বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলার আশা টিকে আছে অনেক সমীকরণ মেলার উপরে। এ মুহূর্তে ৩ করে পয়েন্ট উজবেকিস্তান, ভারত ও সিরিয়ার। গ্রুপের একমাত্র দল বাংলাদেশই এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। খবর বিডিনিউজের।
ভারতের বিপক্ষে ১–০ গোলে হেরে বাছাই শুরু করা সিরিয়া শুরু থেকে বাংলাদেশের উপর অধিপত্য করতে থাকে। প্রথম ভালো সুযোগটি তারা পায় সপ্তদশ মিনিটে। বাইলাইনের একটু উপর থেকে সতীর্থের কাট ব্যাকে প্লেসিং শট নেন আব্দুল্লাহ আলনাজার, দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল কোনোমতো ক্রসবারের উপর দিয়ে বের করে দেন গোলকিপার রাজ চৌধুরী। সিরিয়ার চাপ সামলে আক্রমণে ওঠার তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারছিল না বাংলাদেশ। সুযোগ যা তৈরি করছিল, সিরিয়াই। ২৩তম মিনিটে আব্দুল্লাহর শট পোস্টের বেশ বাইরে দিয়ে যায়।
আধ ঘণ্টা পর সিরিয়ার বক্সে একটু ভীতি ছড়াতে পারে বাংলাদেশ। জয় আহমেদ ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় দল। শেখ সংগ্রামের ফ্রি কিক হেডে কর্নার করে দেন এক ডিফেন্ডার। এই কর্নারের পর সতীর্থের পাসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি বক্সে ভালো জায়গায় থাকা অধিনায়ক আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। এরপর আরেকটি কর্নারও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
একটু পর ফাহিমের কোনাকুণি শট গোলকিপার ঝাঁপিয়ে কর্নার করে দেন। এই কর্নারও অনেকটা লাফিয়ে রুখে দিয়ে সিরিয়াকে স্বস্তিতে রাখেন ইসমাইল হাদি। ৪২তম মিনিটে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। পরে দুই মিনিটির মধ্যে দুই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ৪৪তম মিনিটে সতীর্থের লং পাস নিয়ন্ত্রণে নিলেও শট নেননি আব্দুল্লাহ। তার ব্যাক হিল পাসে আলান মামোর নিচু জোরাল শট চোখের পলকে জালে জড়ায়। এরপর ডিফেন্ডারদের প্রতিরোধ এড়িয়ে বক্সের উপর থেকে মারিওস আলহেরেকে শটে আবারও পরাস্ত হন রাজ। ২–০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় সিরিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলা গতি কিছুটা ফিরলেও তা সিরিয়াকে চেপে ধরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। বরং সিরিয়াই শেষ দিকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আরও। ৭৩তম মিনিটে আমের আম্মারের বাঁকানো ফ্রি কিক দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে আটকে ব্যবধান বাড়াতে দেননি রাজ। ৮৫তম মিনিটে মামোর শটও ফেরান তিনি। একটু পর অবশ্য অবিশ্বাস্য এক গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। বক্সের বেশ বাইরে ফ্রি কিক পায় সিরিয়া। আলমেরি আলতো টোকায় ফ্রি কিক নেওয়ার পর আলনাজার নিচু শট নেন। গতিও ছিল না তেমন একটা, কিন্তু বল গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় জালে। হতবাক হয়ে যায় বাংলাদেশ।











