তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ছাড়া কোনো গণআন্দোলন সফল হতে পারে না। বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) নতুন কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিগত মতাদর্শ সবার থাকতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখলে সাধারণ মানুষ সেই সংবাদ বেশি গ্রহণ করে। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখনি সাংবাদিকদের পাশে থাকে। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাংবাদিক বান্ধব নানা কর্মসূচি সরকার হাতে নিচ্ছে। তারা যেমন সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করে গেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও তাই করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বিএনপি সরকার অতীতেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।
সরকার বর্তমানে অপতথ্য, অসত্য তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে কাজ করছে। এআই ব্যবহার করে চরিত্রহননের মতো ঘটনা ঠেকাতে এবং এর সুফল–কুফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের সচেতন করতে তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অধিকারগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে অতীতে যেসব আবাসন বিএনপি সরকার দিয়েছিল সেগুলো ধরে রাখা গেছে কিনা সেটি আমাদের ভাবতে হবে। সম্পাদক পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, যেগুলো আগের সরকার দেয়নি। সেই দাবি অনুসারে আমি তাদের বকেয়া পরিশোধে উদ্যোগ নিয়েছি। তবে সাথে সাথে তাদের কাছে একটা দাবি জানিয়েছি যেন আমাদের সাংবাদিক ভাইদেরও কোনো বেতন বকেয়া না থাকে। তারা যেন প্রতিমাসে সঠিক সময়ে বেতনটা পায়। কারণ অনেকে আমার কাছে প্রায় আসে তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সংবাদমাধ্যম হচ্ছে ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ বা জনগণের সংসদ। গত ১৬ বছরে দেশে কার্যকর সংসদের ঘাটতি থাকলেও কিছু সংবাদমাধ্যম জনগণের কথা তুলে ধরেছে। সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ের যৌক্তিক সমালোচনাকে গ্রহণ করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দেশ পরিচালনা করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সেইসাথে যৌক্তিক সমালোচনাও প্রয়োজন। কেননা তা হলেই আমরা আমাদের ভুলগুলো বুঝতে পারব। যারা প্রকৃত অর্থে সাংবাদিক, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে জীবন, যৌবন, অধ্যবসায় পার করেছে, তারা সবাই যেন একটি বৃহৎ সাংবাদিক গোষ্ঠীর সাথে কাজ করতে পারে।
চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) নতুন অফিস পেয়েছে, এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকরা পেশাজীবী সমাজ। আমরা তাদের অত্যন্ত সম্মান করি। আমরা অতীতে দেখেছি, জাতীয়তাবাদী মূলবোধে বিশ্বাসী সাংবাদিকদের কোণঠাসা করে তাদের প্রেস ক্লাব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। আজকে তারা প্রেস ক্লাব ভবনে এসেছে, আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা সাংবাদিক বন্ধুদের অনুরোধ করবো–আপনারা দলীয় মতাদর্শে বিশ্বাস করতে পারেন, কিন্তু আপনি কাজের মাধ্যমে প্রকাশ না করলে মানুষ আপনাদের বাহবা দেবে। আমরা আশা করবো, আপনারা সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আপনারা জানেন, সংবাদে ‘সং’টা বাদ দিয়ে যদি মূল ঘটনাটা উপস্থাপন করা হয় তাহলে সেটা সংবাদ। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে–মানুষ ছাড়া কেউ কিন্তু সংবাদ তৈরি করতে পারে না। সব সংবাদের পেছনে মানুষ থাকে। সংবাদপত্রে আমরা বিভিন্ন সংবাদ আমরা পাই। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেন প্রত্যেকে আমাদের ভালো চায়। কিন্তু সমাজের সব জায়গায় গিয়ে সবকিছু দেখা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এটা তুলে ধরার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সংবাদপত্র। সুতরাং সেই সংবাদপত্রকে অবহেলা করা যাবে না। আমরাও দায়িত্ব মনে করে সমাজের সব সংবাদ পরিবেশন করি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য ওসমান গনি মনসুর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু নাসের, কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তাফা নঈম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তারেক আহমদ, সিএমইউজের সদস্য আমিনুল ইসলাম, বাসসের সিনিয়র রিপোর্টার মিয়া মো. আরিফ এবং দৈনিক আমার দেশের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আবাসন সংকট, বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত সমস্যা তুলে ধরেন। তারা এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম খাতের আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর আগে তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফিতা কেটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নতুন কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।












