সরকার নতুন করে ‘টাকা ছাপিয়ে’ ঋণ নেওয়া শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে আশিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে। মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা ‘হাইপাওয়ার মানি’, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।’
জ্বালানি সংকটে মূল্যস্ফীতি ফের চাঙ্গা হওয়ার শঙ্কার মধ্যে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিয়েছে সরকার। খবর বিডিনিউজের।
টানা কয়েক মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতির হার এক মাসের ব্যবধানে আবার ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। একমাস আগেও যা ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। বাজেট বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ছাপিয়ে ভর্তুকি দেওয়া হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে মন্তব্য করে পিআরআই এর মুখ্য অর্থনীতিবিদ বলেন, টাকা ছাপানোর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি) ও পিআরআই এর যৌথ উদ্যোগে ‘ইভলভিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ ফর ট্রেড অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা–বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ–বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা সংস্কার থেকে পিছিয়ে গেলে সেটা আত্মঘাতী হবে। আশা করছি সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন পর্যালোচনা করবে। সেমিনারে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ–আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, কাঠামোগত সংস্কারের অভাব ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বাড়ছে আর্থিক খাতে ঝুঁকি। তাই আইমএফের চাপে নয় দেশের অর্থনীতির জন্যই সংস্কার দরকার।
দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ট্রাম্পের ট্যারিফ, যুদ্ধ ও জ্বালানি সমস্যা এতগুলো জিনিস একসাথে এসেছে। এই অবস্থায় সামনে এগোতে হয়, তাহলে আমাদেরকে নিজেদের পথ বেছে নিতে হবে।
এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সমপ্রসারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিধা–দ্বন্দ্ব কাজ করছে। তারা গ্যাস–বিদ্যুৎ পাবেন কি না সেই চিন্তা করছেন। সরকার ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা এবং খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।












