নবম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, দ্রুত স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠনসহ চার দাবিতে চলমান কর্মবিরতির কর্মসূচি স্থগিত করেছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আজ বুধবার থেকে সাত শতাধিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্ম সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি–বাসমাশিসের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুস সালাম গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় বলেন, আমাদের চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। আমরা সরকারকে কিছুদিন সময় দেব। এর মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করব। পরীক্ষাটি শেষ করে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি নেব। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা এসএমএস পাঠিয়ে সব জেলা ও আঞ্চলিক কমিটিকে জানিয়েছি। খবর বিডিনিউজের।
রাত ১০টার দিকে বাসমাশিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসমাশিস ঘোষিত কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তা অনুধাবন করে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
দাবি–দাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চেয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন এ শিক্ষকরা। গতকালও কর্মবিরতি চলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। রাতে আন্দোলনকারীদের তরফে কর্মসূচি স্থগিত করে আজ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা এলো।
এ বিষয়ে শিক্ষক নেতা আব্দুস সালাম বলেন, বুধবার যদি কোনো স্কুলে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় সেক্ষেত্রে সেই স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হবে। আর যদি কোনো স্কুলে কোনো কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
চট্টগ্রামে কর্মবিরতি পালন : চার দফা দাবিতে গতকাল চট্টগ্রামে দিনভর কর্মবিরতি পালন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রামের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্ধারিত পরীক্ষা হয়নি।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো : ১. ‘সহকারী শিক্ষক’ পদটি নবম গ্রেডে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত করে দ্রুত সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন করে গেজেট প্রকাশ। ২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন। ৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ তিন কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া। ৪. ২০১৫ সালের পূর্বের মতো সহকারী শিক্ষকদের ৩/২টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।












