পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে আগামী মাসের শুরুতে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে চায়না প্রতিষ্ঠানটি। যারা কর্ণফুলী টানেলের কাজ করেছিল তারাই (চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড–সিসিসিসি) পতেঙ্গায় পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ডিজাইন শেষ করে এখন প্রকল্পের কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পতেঙ্গায় সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে আনোয়ারা অংশে একটি বুস্টার স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। মূলত ভান্ডালজুড়ি থেকে পাইপলাইনে পানি এনে আনোয়ারা বুস্টার স্টেশন থেকে পাইপলাইনে চাপ বৃদ্ধি করে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম গতকাল আজাদীকে বলেন, বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পানি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পতেঙ্গায় সরবরাহের ব্যাপারে ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে চায়না প্রতিষ্ঠানটি ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করেছে। তারা ডিজাইনও শেষ করে ফেলেছে। আগামী ২৫ তারিখ রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর আমরা ওয়ার্ক অর্ডার দেব। আগামী মাসের শুরুর দিকে তারা কাজ শুরু করবে। কাজ খুব দ্রুত এগিয়েছে। যারা কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল তারাই এই প্রকল্পের কাজ করবে।
তিনি বলেন, যেহেতু কর্ণফুলী টানেলের কাজ তারা করেছে, টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পানি সরবরাহের কাজটি তারাই ভালো বুঝবে। এজন্য তাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছিলাম। তারা ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন শেষ করে এখন প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। তিনি জানান, আনোয়ারা অংশে একটি বুস্টার স্টেশন স্থাপন করা হবে। এই পাম্প হাউজ থেকে পাম্পিং করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে।
জানা গেছে, পতেঙ্গা এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ১০ কোটি লিটার। ভান্ডালজুড়ি থেকে প্রতিদিন ২ কোটি লিটার পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে। পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাইপলাইন ও সংযোগ কাজের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপুষ্ট ৩,৭৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প আগেই হাতে নেওয়া হয়েছে। ভান্ডালজুড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের বিষয়টি এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।












