ভারত দুই মাসের ভেতর ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হওয়ার পথে থাকলেও জানে না তার লোকসংখ্যা আসলে কত। দীর্ঘ সময় ধরে জনগণনা করতে না পারা ভারতের জনসংখ্যার ওই হিসাব বিভিন্ন সংস্থার অনুমিত।
দেশটি প্রতি দশ বছর পরপর আদমশুমারি করে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালে ফের আদমশুমারি হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড–১৯ মহামারীর কারণে তা দেরি হয়। আর এখন এটি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামগত সীমাবদ্ধতায় আটকা পড়েছে, সেসব পেরিয়ে লোক গণনা দ্রুত শুরু করা যাবে, এমন কোনো ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না। খবর বিডিনিউজের। কর্মসংস্থান, বাসস্থান, শিক্ষিতের হার, অভিবাসনের ধরন, শিশুমৃত্যুর হার সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য পাওয়ার উপায় আদমশুমারি; তাতে দেরি হওয়ায় তা বিশাল অর্থনীতির দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা তৈরিতে প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তা জানান, আদমশুমারি প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও প্রযুক্তির সাহায্যে একে নির্ভুল করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কারণেই এবারের লোকগণনায় দেরি হচ্ছে। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচকরা বলছেন, ২০২৪ সালে হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে বেকারত্বের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যু সংক্রান্ত তথ্য লুকাতেই সরকার এবার আদমশুমারি করতে দেরি করছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ভারতের জনসংখ্যা চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল ১৪২ কোটি ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ ছুঁতে পারে আর সেদিনই দেশটি চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হবে। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি; অর্থাৎ, পরের এক যুগে দেশটিতে আরও ২১ কোটি লোক যোগ হয়েছে, যা ব্রাজিলের মোট জনসংখ্যার প্রায় সমান।














