মীরসরাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিসমত জাফরাবাদ গ্রামে ২.৬০ একর জমিতে ২০২৪ সালের শুরুতে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্পে ১০৯টি প্লট প্রকৃত ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষদের মাঝে বন্টন করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পে উপকারভোগী প্রকৃত দুস্থ মানুষের পাশাপাশি অনিয়মের মাধ্যমে সক্ষমদের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে বর্তমানে প্রকল্পের অনেক ঘরে কেউ থাকেন না। সেখানে তালা দেয়া। আবার কেউ দিয়েছেন ভাড়া। প্রকল্প এলাকায় মাদকের আস্তানা গড়ে উঠারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি পরিবার ঘর বরাদ্ধ পেলেও তাদের দলিলপত্র বুঝে পায়নি।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ১৫টি ঘরে তালা দেয়া। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তালা দেয়া এসব ঘরে প্রকৃতপক্ষে কেউ থাকে না। অন্যত্র ঘর থাকার পরও তথ্য গোপন করে অনেকে এখানে ঘর বরাদ্দ নিয়ে রেখেছে। কিন্তু তথ্য দিলে পরে সমস্যায় পড়তে হবে তাই স্থানীয়রা বরাদ্ধ নেয়া এসব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
আবাসনের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), কমলা বেগম (৫৫) ও বানু বিয়া (৬২) সহ অনেকে অভিযোগ করেন, প্রতিদিন রাতে এখানে বহিরাগত যুবকের আনাগোনা বেড়ে যায়। কিছু ঘরে মাদকের আসর বসে।
স্থানীয়রা জানান, ঘর বরাদ্ধ পাওয়া সেখানে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসলেও তাদের দলিল এখনো বুঝে পায়নি। তবে যারা দলিল পেয়ে বসবাস করছেন তাদের অনেকে ঘর ভাড়া দিয়েছেন। কেউ কেউ ঘরের প্রকৃত রূপ পাল্টে টিনের বেড়া লাগিয়েছে।
আবাসন প্রকল্পের মসজিদের ইমাম সেলিম বলেন, প্রশাসন এখানে একটু মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হতো। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মীরসরাইয়ের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের বলেন, আমি এখানে যোগদান করেছি বেশি দিন হয়নি। অভিযুক্ত বিষয়াদি নিয়ে একটি টিম গঠন করে শীঘ্রই সকল প্রয়োজনীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকের আস্তানার বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, ভূমিহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের তালা ঝোলানো সকল ঘরসহ মাদকের আস্তানার বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।












