শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সচিবকে নির্দেশ

চট্টগ্রামে শ্রমমন্ত্রী টিটিসিকে আরও গতিশীল করা হবে

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শ্রম আদালতে নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য পৃথক বসার কক্ষ, কনফারেন্স রুম এবং লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। এ লক্ষ্যে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী দিয়ে দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।

গতকাল শনিবার নাসিরাবাদে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন (আইআরআই) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর–সংস্থার কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদার।

সভার আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ–কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে সভায় প্রতিষ্ঠান দুটি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ–কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈদেশিক ভাষা শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের আরও কার্যকরভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইংলিশ, জাপানি, এরাবিক ও কোরিয়ান ভাষা যাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে টিটিসিকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। টিটিসিতে জনবল সংকট রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগে সময় লাগবে। কিন্তু এখন অপেক্ষা করে থাকার সুযোগ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মেয়র ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শ্রমিকদের কল্যাণেও তিনি এগিয়ে আসছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে গ্রাফিঙ ডিজাইন ও এই পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এসব সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে যথেষ্ট প্রচার–প্রচারণা নেই। তাই চাহিদাসম্পন্ন পেশাগুলো সম্পর্কে প্রচার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের সহযোগিতা করা হলে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার ও বিএসআরএমের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধুমাত্র ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হলে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার আরও বেশি উন্মুক্ত হবে। চিকিৎসক হিসেবে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আধুনিক ও মানসম্মত নার্সিং শিক্ষা বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ নার্সের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেরালা, ব্যাঙ্গালুরু, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো অঞ্চলের নার্সরা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। কারণ তারা উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আমাদের নার্সদের মধ্যেও সেই প্রতিভা রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।

তিনি চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এ উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ধারণ করতে হবে’
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬