শ্মশানে কিশোরের লাশ ও যুবকের আত্মহত্যার নেপথ্যে কী

রাঙ্গুনিয়ায় একই এলাকায় দুই ঘটনা পরকীয়ার ছায়া দেখছেন স্থানীয়রা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ২৩ মে, ২০২৬ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজের ছয় দিন পর মো. মফিজ (১৫) নামে এক কিশোরের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার একটি শ্মশান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা রুবি আক্তারকে হেফাজতে নিয়েছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাপুলিশ। নিহত মফিজ দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর মো. আবু মুছার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মফিজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা মো. আবু মুছা। এরপর শুক্রবার সকাল আটটার দিকে দুধপুকুরিয়া পূর্ব পাহাড় এলাকার মারমা সমপ্রদায়ের চিতাখোলায় (শ্মশান) নতুন মাটি খোঁড়া দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে কিশোরের লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা লাশটি মফিজের বলে শনাক্ত করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবিমায়ের পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ মে ওই এলাকায় মাহবুব আলম ওরফে মাকু আলম (৩৮) নামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। কিশোর মফিজের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই যুবকের আত্মহত্যার কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় শত শত বাসিন্দা জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। লাশটি থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো। সবাই নাকমুখ চেপে ধরে এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। সবাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তবে এসময় সবার মুখে মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক তথা পরকীয়ার কথাই বারবার উঠে আসছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে মায়ের জড়িত থাকার যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি তাদের।

এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. আবু মুছা জানান, বিষপানে আত্মহত্যা করা মাকু আলমের সাথে কিশোরের মা রুবি আক্তারের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। তাঁর ধারণা, এ বিষয়টিকে সামনে রেখে তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়ে যাবে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ ওসি আরও জানান, গতকাল একই এলাকায় এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে চায়
পরবর্তী নিবন্ধপারকি সৈকত রক্ষায় ৫৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প