পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ওই মামলার তদন্ত চলছে। পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনায় সমপ্রতি বিএসইসি থেকে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।’ খবর বিডিডিনউজের।
দুদকের নথি অনুযায়ী, আবুল খায়ের হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন করে বিনিয়োগের অভিযোগে বিএসইসি এ পর্যন্ত যেসব তদন্ত বা এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন করেছে, সেগুলোর সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে গত বছরের ১৪ মে বিএসইসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ১৭ জুন পুঁজিবাজার কারসাজির মাধ্যমে অর্থলোপাটের অভিযোগে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করেন।
দুদকের মামলায় বলা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মাগুরা–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।
হিরুর কারসাজিকৃত এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে সাকিব মার্কেট ম্যানিপুলেশনে যোগসাজশ করেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, সাকিব এভাবে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে পুঁজিবাজার থেকে তুলে আত্মসাৎ করেন।
মামলার প্রধান আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের, যিনি হিরু নামে পরিচিত। বাকি আসামিরা হলেন– সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।













