ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা প্রসঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলছিলেন তিনি। তার কথায়, সব ধরনের অস্থিতিশীলতা সরকার প্রতিহত করবে। খবর বিডিনিউজের।
পোশাক শ্রমিকদের দাবি আদায়ে করা আন্দোলন ও সহিংসতার পেছনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কিছু করতে পারবে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে লুটের টাকা পয়সা আছে, সেহেতু তারা কোথাও না কোথাও কোনো ফরম্যাটে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে টাকা খরচ করে। যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তার কাছে এ বিষয়ে তথ্য আছে সে কারণে কোনো লিংক থাকতেই পারে। তার মানে এই না ডিসেম্বরে তার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এটা হচ্ছে। সরকার অন্তত এটা মনে করে না। জাহেদের কথায়, অস্থিতিশীলতা এখন না, এই ডিসেম্বরের পরও আবার কোনো না কোনো সময় সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।
সহিংসতা ও শেখ হাসিনা নিয়ে তিনি বলেন, আমি একটু এভাবে বলি, হাসিনার একটা কথা বলি, ১৯৯১ সালে উনি আনএঙপেক্টেডলি, উনারা নাকি সরকার টরকার গঠন করে ফেলেছিলেন, তো উনি হেরে গিয়েছিলেন। উনি তো নিজেও হেরেছিলেন, তিনটা সিটে দাঁড়িয়ে দুটো সিটে হেরে গিয়েছিলেন। তো সেটা যখন করছেন, সংসদে প্রথম দিন উনি বলেছিলেন এই সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেব না। বলেছিলেন না? মানে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নির্বাচিত একটা সরকার যেখানে তিনি পার্টিসিপেট করেছেন এবং কিছু সিট টিট পেয়েছেন, তিনি সেখানকার সরকারকে বলছেন।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে জাহেদ বলেন, উনার ওই সময়কার মেন্টালিটি, ৯১ সালে হাসিনা এখনকার চাইতে কম দানব ছিলেন। কিন্তু উনি তখনও এই কথা বলেছেন। আর এখন উনি আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেবেন, উনাকে হাজার হাজার, লাখ লাখ লোক নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, উনি সেটা দেবেন না। উনি চেষ্টা করবেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এটা এখন না, আবারও বলছি এটা ডিসেম্বর না, এটা পুরো সময়, যত দিন উনি বেঁচে আছেন উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে মজুরি বোর্ড রিভিশন হয়েছে পাঁচ বছর পরপর। ২০২৩ আসলে একবার রিভিশন হয়েছে। ২০২৬ এ এসে রিভিশন হওয়ার কথা ছিল না। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে রিভিশন হয়েছে। ২০১৩ এর পরে ২০২৬ এ হল। আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের যারা গার্মেন্টস কর্মী আছেন তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে এটাতে কোন ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে বেসিক কতগুলো জিনিস, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এটা সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বাড়ছে।
সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই এই কমিশন গঠন করেছে মন্তব্য করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ফলে মূল আন্দোলনের যে দাবি সেটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরপরও যদি কনটিনিউ করে সহিংস আচরণ কারো কারো মধ্যে দেখা গেছে। এর ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বলেছেন এ সব আন্দোলন সহিংসতা দাবির কারণে হতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে বাহিনীগুলো তার অধীনে আছে, তাদের কাছে গোয়েন্দা কার্যক্রম আছে, তথ্য আছে তার ভিত্তিতেই তিনি হয়তো বলেছেন সীমান্তের উপর থেকে হয়েছে। এটার সাথে ডিসেম্বরের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না।











