কাপ্তাই জেটিঘাট দিয়ে নৌপথে পাঁচ উপজেলার মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। তাদের ওঠানামার সুবিধার্থে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পন্টুন। কিন্তু পন্টুনে ওঠানামার কাঠের সংযোগপথটি নড়বড়ে ও দুর্বল হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাথায় ভারী মালামাল নিয়ে যারা যাতায়াত করেন, তাদের ভোগান্তি বেশি।
জানা গেছে, কাপ্তাই জেটিঘাট দিয়ে নৌপথে রাঙামাটি সদরসহ বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছাড়াও পর্যটকেরা এই ঘাট ব্যবহার করে নৌপথে বিভিন্ন গন্তব্যে যান। কিন্তু পন্টুনে ওঠানামার জন্য স্থায়ী ও মজবুত কোনো ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে পন্টুন সরিয়ে ফেলতে হয়। আবার পানি কমে গেলেও পন্টুন সরাতে হয়। ফলে যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়।
জেটিঘাট পন্টুনের ব্যবস্থাপক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, তারা বছরের পর বছর ধরে এই পন্টুন ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন শতাধিক ইঞ্জিনচালিত বোট কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। কিন্তু পন্টুনে ওঠানামা করতে সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিলাইছড়ির বাসিন্দা অলোক চাকমা বলেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে তারা প্রতিদিন কাপ্তাই যাতায়াত করেন। প্রতি শনিবার কাপ্তাই জেটিঘাটে হাট বসে। এই হাটে সহস্রাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মালামাল নিয়ে আসেন। বয়স্ক নারী–পুরুষ ও শিশুরাও কেনাকাটা এবং মালামাল বিক্রির জন্য জেটিঘাট বাজারে আসেন। ভারী মালামাল মাথায় নিয়ে পন্টুনে ওঠানামা করতে সুস্থ–সবল মানুষকেও বেগ পেতে হয়। বিশেষ করে নারীরা বিভিন্ন শাকসবজি ও মৌসুমি ফল মাথায় নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পন্টুনে ওঠানামা করেন। এভাবে চলাচল করতে গিয়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
হরিণছড়ামুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার বলেন, আমরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পন্টুন ব্যবহার করে ইঞ্জিনচালিত বোটে ওঠানামা করি। এখানে শক্ত, মজবুত ও স্থায়ী পন্টুনের ব্যবস্থা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ বলেন, বাংলাদেশ নৌ অভ্যন্তরীণ লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দেখভাল করা উচিত। কিন্তু জনদুর্ভোগের এই বিষয়টি তাদের নজরে আছে বলে মনে হয় না।












