জাতীয় ক্রিকেট লিগের ৫ম রাউন্ডের ম্যাচে নিজেদের মাঠে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সিলেট বিভাগকে ১ উইকেটে পরাজিত করে স্বাগতিক চট্টগ্রাম। জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ৪০ রান, বাকি তখনও ৭ উইকেট ছিল চট্টগ্রামের। অনায়াস জয়ের পথেই ছিল তারা। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল সিলেট। পরের ২৩ রানের মধ্যে তারা নিল ৬টি উইকেট। তবে ভাঙতে পারল না শেষ জুটি। নাটকীয় জয় পেল চট্টগ্রাম। চলতি লিগে চট্টগ্রামের এটি দ্বিতীয় জয়। এর সঙ্গে একটি ড্র করে মোট ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে তারা। সমান ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চারে সিলেট। এবারের লিগে তৃতীয় সেঞ্চুরি করে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক সাদিকুর। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রান করে আউট হন ৩৪ ছুঁইছুঁই বাঁহাতি ওপেনার। চতুর্থ দিনের ম্যাচে দাপট ছিল চট্টগ্রাম দলের। তারা সহজভাবেই জিতবে বলে ধারণা করা গিয়েছিল আগের দিন। কিন্তু ম্যাচ যত আগালো চট্টগ্রাম ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছিল। মাত্র ২০ রানে ৫টি উইকেট হারিয়ে কেবল চাপেই পড়েনি চট্টগ্রাম, উল্টো যেন হারের মুখেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ উইকেটে আশরাফুল হাসানের বীর ভূমিকায় শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের জয় নিয়ে স্বাগতিক দল চট্টগ্রাম মাঠ ছেড়ে আসতে সক্ষম হয়। চট্টগ্রামের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ২২৭ রানের। এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে আগেরদিন মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলে ফেলেছিল। আর প্রয়োজন ছিল ১০১ রানের। কিন্তু গতকাল শেষ দিনের তৃতীয় ওভারেই আগের দিনের অপরাজিত শাহ পরান ফিরেন আর কোন রান যোগ না করেই। তিনি ৫১ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। এদিকে অভিজ্ঞ ব্যাটার শাহাদাত হোসেন দিপুও সাদিকুরকে সঠিক সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন। দিপু ৫ রান করেই ফেরত যান। চতুর্থ উইকেটে রাব্বিকে সঙ্গী করে ৪২ রান যোগ করেন সাদিকুর। ২৩ বলে ৩০ রান করে ফিরেন রাব্বি। সাদিকুর রহমান তুলে নেন লিগে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। রাব্বি আউট হওয়ার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। ইরফান শুক্কুর, হাসান মুরাদ, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ রুবেল ফিরে যান দ্রুতই। তখনও ভরসা হয়ে ছিল সাদিকুর। কিন্তু দলকে ২১০ রানে পৌঁছে দিয়ে সাদিকুর ২০১ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ১০০ রান করে ফিরে যান। নবম উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। আশরাফুল হাসান এসময় ব্যাট হাতে দৃঢ়তার পরিচয় দেন। দলকে এনে দেন ১ উইকেটের দুর্দান্ত এক রোমাঞ্চকর জয়। ২২ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে মাথা উঁচিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন আশরাফুল হাসান। তার সাথে ছিলেন সঞ্চিত মজুমদার অপরাজিত ৪ রান নিয়ে। সিলেট বিভাগের পক্ষে ৪টি উইকেট পান জাতীয় দলের স্পিনার নাসুম আহমেদ। ৩টি উইকেট নিয়েছেন শাহানুর রহমান। এর আগে সিলেট বিভাগ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২১৮ রান। জবাবে চট্টগ্রাম বিভাগ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২১০ রান। সিলেট তাদের দ্বিতীয় ইনিংসও করেছিল ২১৮ রান। আর তাতে চট্টগ্রামের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২২৭ রানের। ম্যাচ সেরা হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের ওপেনার সাদিকুর রহমান। চট্টগ্রামের পক্ষে সাদিকুর রহমান ১০০ রান করেন দ্বিতীয় ইনিংসে। তার হাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে দেন ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ শিপার। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের প্রধান কোচ নাজিম উদ্দিন, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ রাজিন সালেহ। চট্টগ্রাম তাদের পরের ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে খেলবে। সংক্ষিপ্ত স্কোর : সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস ২১৮/১০ ও দ্বিতীয় ইনিংস ২১৮/১০। চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংসে ২১০/১০ ও দ্বিতীয় ইনিংস ২২৯/৯।











