ভারপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে টানা প্রায় দেড় দশক দায়িত্ব সামলেছেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে দলের হাল ধরেন তিনি। তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকলেও দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে দলের আন্দোলন পরিচালনা করেছেন মির্জা ফখরুল। শেখ হাসিনা সরকারের দমন–পীড়নের মধ্যে দলকে দিশা দেখানো মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করায় মহাসচিব পদে কে আসছেন, সে আলোচনা চলছে।
ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বিএনপির বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামই আলোচনায় আসছে বেশি, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পোড়খাওয়া নেতা। দলের স্থায়ী কমিটির দুই জন সদস্য বলেছেন, আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়েই চলবে বিএনপি। কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পদে বসবেন কোনো নেতা।
বাংলানিউজ জানায়, দলের একাধিক নীতিনির্ধারক, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রাজনীতির মাঠের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে মূলত তিন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে–বাইরে জোরালো হিসেব–নিকাশ চলছে। তারা হলেন– রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই তিন নেতার প্রত্যেকেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নিজস্ব শক্তির জায়গা।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে সে আলোচনায় যে নামটি বেশি আসছে, তিনি দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বর্তমানে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন। তাকে স্থানীয় সরকারে পাঠালে এ দায়িত্ব কে নেবেন?
দলের ভেতর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে আলোচনা আছে। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা এখন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। কেউ কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর পেতে পারেন এই দায়িত্ব।
সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ আগস্ট। এ সময়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হতে পারে। সরকারের দুই জন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজ এমন আভাস পেয়েছে। অন্তত দুটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন; একই সঙ্গে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে মন্ত্রিসভায়, এমন ধারণা দিয়েছেন তারা। তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার মতে, এত দ্রুত সময়ে (ছয় মাসে) মূল্যায়ন করে কাউকে বাদ দেওয়ার কোনো মনোভাব এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে পুনর্গঠন হতে পারে, এটা বোঝা যাচ্ছে।
এর আগে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সে মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে আছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা। তাদের মধ্যে কোনো–কোনো মন্ত্রীর দপ্তর যেমন পরিবর্তন হতে পারে, তেমনি কোনো মন্ত্রী বাদও পড়তে পারেন।
সরকারের একজন মন্ত্রী বিডিনিউজকে বলেছেন, অন্তত সাত–আটটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মন্থর। এসব মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে পারে। যাদের হাতে দুই বা তিনটি করে মন্ত্রণালয় আছে, তাদের কারো–কারো দায়িত্ব কমতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন কাউকে দেখা যেতে পারে। ওই মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও কয়েকজন মন্ত্রীকে ডেকে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন। কোনো–কোনো মন্ত্রীকে লক্ষ্য পূরণের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রীদের আরো কয়েকজনের দপ্তর নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।









