চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত হয়েছে ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) মেশিন। এই মেশিনের মাধ্যমে মাংসপেশি ও স্নায়ুর বিভিন্ন জটিলতা নির্ণয় করা যাবে। বিশেষ করে হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া, স্নায়ুতে টান বা দুর্বলতা, মেরুদণ্ডজনিত সমস্যায় পা অবশ হওয়া, সায়াটিকা, মাংসপেশির দুর্বলতা এবং বিভিন্ন ধরনের পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি নির্ণয়ে ইএমজি মেশিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গতকাল দুপুরে চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে আয়োজিত ইএমজি মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। ওহিদুল আলম নামের এক ব্যবসায়ী নিউরোলজি বিভাগে মেশিনটি দান করেছেন।
নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাগর দেব তপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক ডা. রিফাত কামাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চমেকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনিসুল হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন ইএমজি মেশিনের দাতা মো. ওহিদুল আলমের পুত্র ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মনিরুল আলম এবং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এস এম আবু তৈয়ব, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম, নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল আলম, শিশু নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আলাউদ্দিন, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহবুব আলম খন্দকার, অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কায়স্থগীর, অধ্যাপক ডা. শিউলি মজুমদার, অধ্যাপক ডা. পঞ্চানন দাশ, অধ্যাপক ডা. মো. মুহিতুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. তৌহিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজুরুল কাদের চৌধুরীসহ বিভাগের অন্যান্য সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার এবং ট্রেইনিরা।
নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ইএমজি মেশিন যুক্ত হওয়ায় রোগীরা এর সুফল পাবেন। বিশেষ করে স্নায়বিক বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে এই মেশিন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা এবং চিকিৎসকদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে এই মেশিন ভূমিকা রাখবে। আমাদের বিভাগে আমরা সামনে নিউরো ইন্টারভেনশনের কাজ শুরু করব। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ জনকে আইভি থ্রম্বোলাইসিস দিয়েছি। এই সেবাটি আমরা ২৪ ঘণ্টা দিচ্ছি। স্ট্রোক হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। তাই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের বিভাগে অনেক রোগীকে বারান্দায় চিকিৎসা দিতে হয়। সেখানে আমাদের হাঁটু গেড়ে বসে চিকিৎসা দিতে হয়। বারান্দায় বা গেটের বাইরে যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন সেইসব রোগীকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। সেখানে ফ্যান নেই, অঙিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নেই, সিকিউরিটির সমস্যাও আছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবাটুকু দিচ্ছি।











