রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর অনুমোদন

আগামী মাসেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা

| শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা–নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘স্টেজ–সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ–বায়েরা। এর ফলে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে তা সরবরাহের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাসান বলেন, বায়েরা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছেন।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে গেলে আগামী মাসেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। এর আগে প্রথম ইউনিটের বি–২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ যাবতীয় প্রাক–প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এসব পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন বায়েরার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পরই স্টেজ–সি পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন মিলেছে।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপের ধাপ পেরিয়ে কেন্দ্রটি এখন সরাসরি পাওয়ার স্টার্টআপ বা উৎপাদন প্রস্তুতি পর্বে প্রবেশ করছে। এ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়েরা ট্রায়াল অপারেশনাল অনুমোদন দিয়েছে। স্টেজ–সি বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন–জেনারেটর, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কার্যকারিতা ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় নিখুঁতভাবে কাজ করছে কিনা, তাও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। এই ধাপের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা শতভাগ যাচাই করা।

রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্রপাতিগুলোর কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে, টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, বায়েরা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাসংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় অব্যাহত রাখতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভয় ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে ওঠে জনগণের পুলিশ হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধনবীন শিক্ষার্থীরা সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে আগামীকে আরও সমৃদ্ধ করবে