ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা ময়দানে গতকাল শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ পরবর্তী মাহফিলে দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফের সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসুল পীর আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ বলেন, আল্লাহর হাবিব হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও রহমত। তাঁর আদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর প্রতি নিস্কলুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আওলাদে রাসুল পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন মানবতার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীতে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও অশান্তি দূর করা সম্ভব।
১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে আনজুমান ট্রাস্টের আয়োজিত জশনে জুলুস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা ঈমানদার মুসলমানের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাই নবীপ্রেমে আনন্দ প্রকাশ এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জুলুসকে বৈধ, শরীয়ত সম্মত ও আমলে হাসানাহ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিদাত নিয়ে বিব্রত কারীদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, মনে রাখতে হবে, বিদাত দুই প্রকার, বিদাতে হাসনাহ ও বিদাতে সাইয়্যাহ। হযরত ওসমান জিন্নুরাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু পবিত্র কোরআন শরীফকে একত্রি ও সুবিন্যস্ত করেছেন, ওমাইয়া খলিফা ওয়ালিদের সময়কালে কুরআনে নোকতা দেয়া হয়– এগুলো আবিষ্কার নতুন, কিন্তু উম্মতের কল্যাণে, কোরআনকে বিশুদ্ধভাবে পড়ার জন্য জরুরি ছিল। অনুরূপ যখন ইসলামের নামে হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিলাদ নিয়ে, হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শান মান নিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, তখন জমহুর আকাবেরিন মৌলুদে মোস্তফা চালু করেছেন, যা পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলন হয়েছে, একইভাবে হযরত সৈয়দ আহমদ শাহ সিরিকোটি রহমাতুল্লাহি আলাইহির বাগানের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি জশনে জুলুস চালু করেছেন ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশে এটিই শুরু করে হুজুর তৈয়ব শাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাঙালিদের আল্লাহর নিয়ামতে ভরপুর করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জশনে জুলুস শুধু একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা নয়, এটি নবীপ্রেম, শান্তি, সমপ্রীতি ও মানবতার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। চট্টগ্রামে ৫৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুশৃক্সখল ও ব্যাপকভাবে এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।
আল্লামা সাবির শাহ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর জীবনাদর্শকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ এবং অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। নবীজির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই একটি কল্যাণময় সমাজ গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে অশান্তি, হিংসা, সংঘাত ও বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান্তি ও মানবতার আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর বিদায় হজের ভাষণে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের তিনি সৌবাগ্যবান ও মোবারকবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানুষের কল্যাণ ও শান্তির বার্তা বহন করবে–এটাই প্রত্যাশা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে তাঁর আদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণের মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ ঘটাতে হবে।
তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) র শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
নামাজে জুমায় আরও অংশগ্রহণ করেন আওলাদে রাসূল, সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (মাজিআ) এবং সাবেহজাদা সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ (মাজিআ)। আরও ছিলেন আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এসএম গিয়াস উদ্দীন (শাকের), ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, মাহমুদ নেওয়াজ, উপদেষ্টা কামাল উদ্দীন চৌধুরী, আনজুমান সদস্য শাহাজাদ ইবনে দিদার, আনোয়ারুল হক, তৈয়বুর রহমান, আবদুল হামিদ, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আলী, লোকমান হাকীম মো. ইব্রাহীম, নুর মোহাম্মদ, আবদুল হাই মাসুম, সাদেক হোসেন পাপ্পু, মাহবুবুল আলম, মাহবুব ছফা, ড. মুহাম্মদ সাইফুল আলম, ফরিদুল আলম, তৌহিদুল করিম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মারুফুর রহমান, মুখপাত্র অ্যাড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, এইএমবি এর সচিব প্রফেসর আবু ছালেহ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল প্রমুখ।
দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদের খতিব আল্লামা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবাইর রজভীর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন অত্র মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ ইব্রাহীম, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা জয়নুল আবেদীন কাদেরী, খতিবেরহাট জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












