টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘর চাপা পড়ে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধাসহ আরও অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধসে পড়েছে একাধিক বসতবাড়ি, প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এবং তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে পাহাড়ধসের প্রথম ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টির কারণে ইছাখালী গুচ্ছগ্রামের একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা রেনু আক্তার মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আরও দুইজন আহত হন। এছাড়া একই এলাকার আদর্শগ্রাম ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাহাড়ধসে শহর বানু (৭০) নামে এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ভর্তি করা হয়েছে।
পাহাড়ধসের তাণ্ডব চলেছে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও। বেতাগী ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেমিরছড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পাহাড় ধসে মাসুদ ও কাশেমের মালিকানাধীন দুটি বসতঘর দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে বাসিন্দারা দ্রুত সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। অন্যদিকে পৌরসভার ভবানিমিল এলাকায় পাহাড়ধসে ইকবাল, জায়তুর নূর, মো. কোরবান, মো. ইয়াকুব ও লুৎফরন্নেছার মালিকানাধীন ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে একদিকে পাহাড়ধসের আতঙ্ক, অন্যদিকে মরিয়মনগর–গাবতল ডিসি সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ইসলামপুর ইউনিয়ন শাখার মানবিক টিমের সদস্যরা দ্রুত গাছটি অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন।
পাহাড়ধসের তীব্র শঙ্কা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ। উপজেলার জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তারা নিজে উপস্থিত থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করছেন।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিকটস্থ ‘জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, পাহাড়ধসে প্রাণহানির এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, নদীর পাড় ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কিছু নম্বর দেওয়া হয়েছে– ইউএনও: ০১৭৮৯–৭৯৬১৬০, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা: ০১৮৩২–৫১৬২৮৬, পল্লী বিদ্যুৎ (ডিজিএম): ০১৭৬৯–৪০০১০৯, ফায়ার সার্ভিস: ০১৮৬০–৩৮৭১৬১।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গুজব বা আতঙ্কে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য রাঙ্গুনিয়াবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।












