মাতারবাড়ির সাইটপাড়ায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

বঙ্গোপসাগরের ভাঙন

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

কঙবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গত দুদিন ধরে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের নাগরিক ভোগান্তি। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে উপকূলের শতাধিক ঘরবাড়ি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্লাবিত ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো এখনো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ এখন কার্যত অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় ঘরে জমিয়ে রাখা সব খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্লাবিত এলাকার মানুষের মাঝে এখন তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর হাহাকার, অন্যদিকে দুমুঠো অন্নের তীব্র অভাব, সব মিলিয়ে মাতারবাড়ীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয় নেমে এসেছে।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন মজিদী বলেন, সাইরার ডেইল গ্রামের সাইটপাড়া ও জেলেপাড়ায় সাগরের ভাঙনে প্রায় ২০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব ত্রাণসামগী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র অভাব এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন অবহেলিত নারী ও শিশুরা।

মাতারবাড়ি ইউপির সাবেক মেম্বার হামেদ হোসেন বলেন, বন্যার পানি কমলেও তাদের ভোগান্তি কমেনি, বরং নিত্যদিনের সংকট আরও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অনেক দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও কোনো ধরনের সাহায্য পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং স্থায়ী পুনর্বাসন সহায়তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দিরা মাহমুদ ডালিম বলেন, বন্যার শুরুর সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এলাকার নিচু এলাকায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। সরকারি সাহায্য বাড়ানোর জন্য সব ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১০ উপজেলায় ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে ক্ষয়ক্ষতি ৬৬ কোটি টাকার বেশি