কক্সবাজারে ২০৪৮ কিমি সড়ক ও মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি টাকার ক্ষতি

ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। প্লাবিত হয়েছে সব উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এর মধ্যে পেকুয়া সর্বোচ্চ প্লাবনের শিকার হয়েছে। এই উপজেলার ৯৫ শতাংশ প্লাবিত হয়েছে। বিপুল ঘরবাড়ি ও মৎস্যখাতে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে। মৎস্যখাতে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিচালিত প্রাথমিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়। মাতামুহুরী নদীর পানিতে সৃষ্ট বন্যায় পেকুয়ার সব (সাত) ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। সব মিলে ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৫০টি বাড়ি এবং মারা গেছে দুইজন। একইভাবে মাতামুহুরি নদীর পানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্লাবিত হয়েছে চকরিয়া। এই উপজেলায় পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩০০ বাড়ি এবং সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর বেশি প্লাবিত হয়েছে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলা। এখানকার সব (সাত) ইউনিয়নের ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৯০টি বাড়ি এবং মারা গেছে একজন। দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার সব (ছয়) ইউনিয়নের ৬৫ শতাংশ এলাকা সাগরের জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫০টি বাড়ি এবং মারা গেছে একজন। মহেশখালীর পৌরসভাসহ সব () ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এখানে ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মারা গেছে একজন। রামুতে সব (১১) ইউনিয়নের ৩৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫টি বাড়ি এবং দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতুকালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতুকালভার্ট এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতুকালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার, উখিয়ায় ৬ কিলোমিটার, টেকনাফে ৫ কিলোমিটার এবং ঈদগাঁওয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ও কালভার্টের মধ্যে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুটি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকনাফের ছয় ইউনিয়নের ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০০টি বাড়ি।

কক্সবাজার সদরের সব ইউনিয়ন (পাঁচ) ইউনিয়নের ২৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ১৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মারা গেছে তিনজন। সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে ঈদগাঁও উপজেলায়। এখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০টি বাড়ি। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৬৪টি বসতি ধ্বংস ও ৯৯৪টি পয়েন্টে ভূমিধ্বস হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, সব উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে মৎস্যখাতে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩৯১৮টি পুকুর এবং ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪২১১ হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৩২১০ জন কৃষক এবং ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ভাঙন হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. . মান্নান বলেন, গত শনিবার থেকে প্লাবিত এলাকায় সরকারের ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য সহায়তা কার্যত্রম অব্যাহত রয়েছে। জেলার জন্য ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধটাইপরাইটারের সাথে সুনিলের তিন দশক
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬