মমতার বন্ধন কি ছোট হয়ে আসছে!

মোঃ আসিফ ইকবাল | রবিবার , ৫ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

মায়া, মমতায় আমাদের জীবনের পরম সম্পদ মনে করি। কেননা মমতা, মায়া ছাড়া জীবন সম্পূর্ণ একপেশে। মমতার বন্ধনেই আমরা কমবেশি জড়াই সেটি হোক রক্তের, সেটি হোক আত্মার আত্মীয়ের, সেটি হোক স্বার্থের বা কাজের। যেকোন কাজেই একটা মমতার বার্তা থাকে। মমতাহীন কোন কাজ বা সম্পর্কই বেশিদিন টিকেনা। যদিও আজকের পৃথিবীতে মায়া, মমতার জায়গায় মানুষ যান্ত্রিক বাস্তবমুখী আর স্বার্থপর হওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছে। পারিবারিক বন্ধনের যে অপূর্ব মমতা তা এখন সোনার মত হরিণের দুষ্পাপ্য হয়ে যাচ্ছে। মমতা, মায়া, স্নেহ যেখানে নিঃস্বার্থ এক স্বর্গীয় রূপ ছিল তাও এখন স্বার্থের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে। মানুষ একসময় সবকিছুতেই মমতাকে প্রাধান্য দিত। আর এখন মমতার জায়গায় স্বার্থ বা নিজের লাভকেই প্রাধান্য দিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আজকাল আমরা নানার বাড়ীর সেই অফুরন্ত মমতার বন্ধন,নানা,নানী মামা,মামীর মমতাও এখন যোজন যোজন স্বার্থময় হয়ে যাচ্ছে।

পারিবারিক যে বন্ধন মমতার অপরিসীম ছোয়ায় আমাদের মধ্যে বিশ্বাসের সেতুবন্ধন করত, তা এখন অর্থবৃত্তের যোজন বিয়োজনে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সকল রক্তের নিকট সম্পর্কগুলো এখন অর্থের মাপকাঠিতে আবদ্ধ হতে চলেছে। মমতার বন্ধন এখন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততা, স্বার্থ, দ্বন্দ্ব আর পারিবারিক সম্পত্তি, ভাগভাটোয়ার সীমাহীন লোভ লালসায়। অথচ রক্তের সম্পর্কের মধ্যে যে মমত্বের টান তার অনুভুতি হাজার কোটি টাকার চেয়েও মূল্যবান তা আমরা বুঝেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছি। রক্তের বন্ধন যেমন কখনো অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা সম্ভব না। ঠিক তেমনি মমতার বন্ধনের গুরুত্ব পৃথিবীর মধ্যে অনন্য, মূল্যবান। এমনকি আত্নীয়, পাড়া প্রতিবেশি, বন্ধু বান্ধবের পরিবারের বিয়ে, মেজবান, সামাজিক অন্যান্য অনুষ্ঠানের দাওয়াতেও এখন অর্থবিত্তওয়ালাদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। কম অর্থবিত্তবান আত্মীয়দের এড়িয়ে যা ভুলে যেতে দেখা যায়। সবমিলে মমতা এখন স্বার্থে ঘেরা এক সোনার হরিণ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারি হাসপাতালে রোগীদের তথ্যসেবার জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করা প্রয়োজন
পরবর্তী নিবন্ধপ্রজন্ম হারিয়ে যাচ্ছে অশালীনতার অন্ধকারে!