মনে ভয় থাকলেও বাইরে স্ট্রং ছিলাম

বললেন এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৫ মে, ২০২৪ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাইকে নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছি। এটাই আমার কাছে বড় শান্তি। তিনি বলেন, সোমালিয়ার দস্যুদের হাতে জিম্মি অবস্থায় আমাদের অন্তরে ভয় থাকলেও তা বাইরে প্রকাশ করিনি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজে তাদের বুঝতে দিইনি যে আমরা ভয়ে আছি। সারাক্ষণ অস্ত্রের মুখে থাকা অবস্থায়ও আমরা সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে পররাষ্ট্র এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ডিজি শিপিংসহ সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি এবং জাহাজ কোম্পানি কেএসআরএমের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবাই কৌশলগতভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শুরু থেকে আমরা ভীত ছিলাম যে, বিদেশি কোনো নৌবাহিনী যদি কমান্ডো অভিযান চালায় তাহলে আমাদের সমস্যা হয়ে যাবে। আমি বলেছিলাম, বিদেশি নৌবাহিনী যেন কোনো ভায়োলেন্স না করে, যাতে আমাদের নাবিকদের কারো প্রাণ না যায় বা জাহাজের কোনো ক্ষতি না হয়।

তিনি বলেন, আমি দস্যুদের বলেছি, প্রয়োজনে আমাকে মেরে ফেল, তবুও আমার বাকি ২২ নাবিককে ছেড়ে দাও। তারা আমাদেরকে অস্ত্রের মুখে রাখলেও কোনোদিন শারীরিক নির্যাতন করেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সবাই সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় দেশের মাটিতে ফিরতে পেরেছি, পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছি। এ এমন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই।

জিম্মি হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ বলেন, আমাদের জাহাজটি ১০ নটিক্যাল মাইল বেগে চলছিল। কিন্তু জলদস্যুরা অন্তত ৩০ নটিক্যাল মাইল বেগের স্পিডবোট নিয়ে আমাদের জাহাজে চড়াও হয়। তারা এত দ্রুত জাহাজে উঠে পড়ে যে, আমাদের কিছুই করার ছিল না। দস্যুরা যখন জাহাজে চড়াও হয় তখন সেকেন্ড অফিসার ব্রিজে ছিলেন। আমি নিচে নেমে অ্যালার্ট দিচ্ছিলাম। দস্যুরা জাহাজে উঠে ব্রিজে চলে আসে। তারা চারজন একে৪৭ রাইফেল নিয়ে সেকেন্ড অফিসারকে জিম্মি করে ফেলে। ফলে আমরা আর হিডেন রুমে যাওয়ার সুযোগ পাইনি। সেকেন্ড অফিসার আটক হওয়ার পর আমি ব্রিজে যাওয়ার সাথে সাথে তারা আমার দিকেও দুইটি একে৪৭ রাইফেল তাক করে। আমি ভিতরে ভয় পেলেও বাইরে স্ট্রং ছিলাম।

ক্যাপ্টেন বলেন, আমি সাথে সাথে হাত তুলে সারেন্ডার করি এবং বলি যে আমরা বাংলাদেশি, আমরা মুসলিম। আমরা রোজা রেখেছি। আমাদের কথা শুনে দস্যুরা কিছুটা নমনীয় হয় বলে মনে হলো। তারা জাহাজের সব নাবিককে ব্রিজে ডাকতে বলল। জাহাজের সকলে ব্রিজে আসার পর তারা আমাদের জিম্মি করে সারা দিন এবং সারা রাত ওখানেই রাখে।

তিনি বলেন, সারাক্ষণই আমাদের মৃত্যুর হুমকি ছিল। নাবিকদের কেউ কেউ কান্নাকাটি করছিল। আমার মনে ভয় ছিল, কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্বাভাবিক রেখেছি। সবাইকে হ্যান্ডেল করে যেন আমাদের কোনো ক্রুর কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখি। সেফটি অফ লাইফটাকে প্রাধান্য দিয়েছি।

জীবনে আর কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসজাগ থাকতে হবে, এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে
পরবর্তী নিবন্ধ২৩ নাবিক ফিরলেন প্রিয়জনের কাছে