চট্টগ্রামের কোতোয়ালী এলাকার ভোরের নীরব রাস্তা। রিকশায় গন্তব্যের পথে এক যাত্রী। হঠাৎ পথ আটকে ছুরির ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয় টাকা-পয়সা। ঘটনাটি হয়তো নগরীর অসংখ্য ছিনতাইয়ের ঘটনার মতোই হারিয়ে যেত। কিন্তু একটি ভিডিও বদলে দেয় পুরো চিত্র।
সতীশ বাবু লেইনে সংঘটিত সেই ছিনতাইয়ের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পৌঁছে যায় হাজারো মানুষের কাছে। ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে ছিনতাইয়ে অংশ নিতে দেখা যায়। এরপরই তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নামে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
অবশেষে সেই ভিডিওর মূল অভিযুক্ত হিসেবে মো. সাদ্দাম হোসেন (৪৩)কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে নগরীর পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেইনে মুজিবুর রহমানের ছয়তলা ভবনের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
একটি অটোরিকশার যাত্রীকে গতিরোধ করে ছুরির ভয় দেখানো হয়। এরপর তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল।
ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে নগর গোয়েন্দা পুলিশের টিম-৩১। উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি (উত্তর-দক্ষিণ)-এর নির্দেশনায় শুরু হয় অভিযান।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তদের একজন কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর শিকলবাহা এলাকায় অবস্থান করছে। পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে সেখানে অভিযান চালিয়ে সাদা টি-শার্ট পরিহিত সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম একটি ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও দ্রুত বিচার আইনে মোট নয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে তিনটি, দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় দুটি, ৩৯৪ ধারায় একটি এবং ৩৯৯/৪০২ ধারায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলাও রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ২০২৫ সালে কোতোয়ালী থানাধীন টেরিবাজার এলাকায় একই ধরনের ঘটনায় এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায়ও সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশার চালক মনির হোসেন (৩৮)কেও এর আগে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ছিনতাইয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সতীশ বাবু লেইনের এই ছিনতাইয়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওই অভিযুক্তকে শনাক্তে পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন উত্তর শিকলবাহা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাদ্দামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।













