শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতা আটকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব দেখানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে কর্মচারীদের ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির মুখে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন–ভাতা পরিশোধ করা হয়।
গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত নিয়ম ভঙ্গ করে নতুন উপাচার্য কর্তৃক শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ।’
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বিক্ষোভে বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতা আটকে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতদিন যে নিয়মে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়েছে, হঠাৎ সেই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেতন আটকে রাখা হয়েছে। আমরা এটিকে ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি চেষ্টা হিসেবে দেখছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে কিংবা শিক্ষক–কর্মকর্তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, এভাবে আমাদের দাবি থেকে সরানো যাবে না। আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল চাই। দ্রুত চলমান সমস্যার সমাধান করে চুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয় সরকার। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যান। আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাসে যেতে না পেরে সমপ্রতি সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই–মেইল করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন নতুন উপাচার্য। এর পরই মূলত শিক্ষক–কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতা আটকে যায়।
বেতন–ভাতা আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখা ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে কম্পট্রোলার ও সহ–কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই এতদিন বেতন–ভাতা দেওয়া হতো।
ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে সোনালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সবার বেতন–ভাতা পরিশোধ করা হয়। বেতন পাওয়ার পর কর্মচারীরা তাঁদের ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
উল্লেখ্য, টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন ও সংকটের কারণে চুয়েটে ক্লাস–পরীক্ষাসহ সামগ্রিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।










