বে টার্মিনালে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় সিঙ্গাপুরি কোম্পানি

| বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মিতব্য বে টার্মিনালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে ফের আগ্রহ প্রকাশ করে সিঙ্গাপুর বলেছে, তারা সেখানকার অবকাঠামো নির্মাণে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। এ বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাই কমিশনার ডেরেক লো। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। খবর বিডিনিউজের।

ডেরেক লো বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে আরও বেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বে টার্মিনাল প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনের অংশ থেকে রাণী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হওয়ার কথা এ বেটার্মিনাল প্রকল্প। এতে ১২ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতা) এবং ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে।

কয়েক বছর আগেও চট্টগ্রাম বন্দরে নানা কারণে জাহাজজট এবং অপেক্ষমাণ সময় বেশি ছিল। বন্দরের বিদ্যমান টার্মিনালগুলোতে ১০ মিটারের বেশি ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতা) জাহাজ প্রবেশ করতে পারত না। ডেরেক লো বলেন, বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ডেমারেজ বা বিলম্বজনিত খরচ কমবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাশ্রয় নিশ্চিত হবে।

এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, কৃষিপণ্য রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদীর বলেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো, দক্ষ জনশক্তি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমা এখনো জানেন না তার ঘরে আসবে চার ছেলের কফিন
পরবর্তী নিবন্ধযান্ত্রিক সমস্যা, পূর্ণ সক্ষমতায় চলে না ৪ ও ৫ ইউনিট